মনোহরগঞ্জের ‘হাওরা সেতু’ জনগণের কাজে আসছে না

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম ও হাওরা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে ডাকাতিয়া নদীর উপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত ‘হাওরা সেতু’ জনগণের কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় গত ১১ বছর ধরে সেতুটি এলাকার জনগণের দুঃখ হিসেবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এতে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড় লক্ষাধিক মানুষ সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি দলীয় তত্কালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম ওই সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের(আইডিবি) অর্থায়নে ৮০ লাখ টাকায় ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৬ সালের ৩০ এপ্রিল নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং একই দিন উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক না করেই উদ্বোধন করায় তখন থেকেই অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি জনগণের কোনো কাজেই লাগছে না।

স্থানীয়রা জানান, সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় লোকজনকে বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওই সেতুর স্থানে আগে বাঁশের সাঁকো ছিল। হেঁটে ওই সাঁকো দিয়ে দ্রুত পার হওয়া যেতো। উঁচু সেতু নির্মাণ হওয়ায় এবং এর দুই দিকে মাটি না থাকায় শুকনো মৌসুমে সেতুতে উঠতে বেশ কষ্ট হয় এবং বেশি সময় লাগে। এছাড়া বর্ষাকালে সেতুটির সকল যোগাযোগ মাধ্যম পানিতে তলিয়ে যায়। ওই সময় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে যাওয়ার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়। এতে বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষকে নৌকাযোগে নদী পারাপার হতে হয়।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসমিন আক্তার জানান, ওই এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সেতুর দুই পাশে মাটি দিলেও তা থাকবে না। সংযোগ সড়ক না করেই সেতু নির্মাণ করায় এমন অবস্থা হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে।

এলজিইডি কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্তি পাল জানান, সেতু সংলগ্ন জমির মালিকরা তাদের জমি অধিগ্রহণ করতে না দেওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে জনগণের স্বার্থে সহসা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু