পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সেতুর ৩৮ নম্বর পিলারের ওপরের ক্যাপের খাঁচা উঠে গেছে। রড ঝালাই করে লাগানো হচ্ছে। খুঁটিটির শেষ ধাপ এই পিলার ক্যাপের ঢালাই ১৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ৩৭ নম্বরের পিলার ক্যাপের খাঁচা কুমারভোগের কনসট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরায় নেয়ার কাজ শুক্রবার রাতে শুরু হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর খাঁচাটি ৩৭ নম্বর খুঁটিতে স্থাপন করা হবে। ৩৭ নম্বর ক্যাপটি অপেক্ষাকৃত বড়। এর পরে ১৫ সেপ্টেম্বর এর ঢালাই করার কথা রয়েছে। এই নিয়ে পদ্মায় এখন ভীষণ ব্যস্ততা। ৪ আগস্ট ৩৮ নম্বর পিলারের উপরের ক্যাপের খাঁচা লাগানো হয়। এর আগে রডের বিশাল ক্যাপের খাঁচা তৈরি করা হয় কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের পাশে ভাসমান জেটিতে।
এই ক্যাপ ঢালাইয়ের ১৪ দিনের মাথায়ই সুপার স্ট্রাকচার (স্প্যান) স্থাপন উপযোগী হবে। তাই এখন পদ্মা সেতুর দৃশ্যমানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টরা চাচ্ছেন সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্প্যান স্থাপন করতে। সেই লক্ষ্যে সব প্রচেষ্টাই চলছে এখন। এই নিয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘন ঘন কাজের তদারকি করছেন।
এদিকে হ্যামার সঙ্কটে দু সপ্তাহেরও বেশি সময় পাইল ড্রাইভ বন্ধ থাকার পর আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে। ১৯ শ’ কিলোজুলের নতুন হ্যামার মাওয়া প্রান্তের ১৪ নম্বর পিলারে পাইল ড্রাইভ করছে। আর ২৪শ’ কিলোজুলের হ্যামারটি নিয়মিত মবিল পরিবর্তনসহ সংস্কার শেষে আবার কাজে নেমেছে। এটি পাইল ড্রাইভ করছে জাজিরা প্রান্তের ৪১ নম্বর পিলারে। পদ্মায় এখন প্রবল স্রোত। এরই মধ্যে সেতুর ভীত তৈরিসহ সব কাজই চলমান রয়েছে। এপর্যন্ত পদ্মা মূল সেতুর নদীতে ৭৯টি পাইল ড্রাইভ হয়েছে। আর তীরের ৪২ নম্বরে আর ১৬টি পাইল স্থাপন হয়েছে। সব মিলিয়ে পাইল বসেছে ৮৫টি। এছাড়া জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সেতুর ১৬৬টি পাইল বসেছে। আর সদ্য শুরু হওয়া মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সেতুর পাইল বসেছে একটি। আরও একটি পাইল স্থাপনের কাজ চলছে। মাওয়া প্রান্তে ১৭২টি পাইল বসবে। অপর প্রান্ত জাজিরায় এই সংযোগ সেতুর ১৯৩ টি পাইলের মধ্যে ১৬৬টি পাইল বসেগেছে। দু’পাড়ের সংযোগ সেতুর পাইল ৩৬৫টি।
এখন চারিদিকে কর্মযজ্ঞ। এসব কর্মযজ্ঞে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। সবমিলিয়ে শরতে পদ্মা ও পদ্মা তীরে এখন বিশেষ পরিবেশ বিরাজ করছে। আর তাই অনেক কৌতূহলী আসছেন বাঙালির এই বীরত্বের সেতুর নির্মাণ শৈলী দেখতে। দেশী বিদেশী কর্মীদের অবিরাম শ্রমে ক্রমেই স্বপ্নের সেতুটি দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে এখন।