গাভীটির বয়স সাড়ে ৩ বছর। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো এটি একটি এঁড়ে বাছুর প্রসব করল। গাভী থেকে ফুটফুটে বাছুরকে দুধও খাওয়ানো হলো। বাছুরটি জন্মলাভের ৫ দিন পর গাভী থেকে দুধ দোহন করতে গিয়ে দেখা গেলো ওলানে রয়েছে ৬টি দুধের বাঁট। তাও আবার ৬টি বাঁট দিয়ে দুধ দোহন করা যাচ্ছে। বিস্ময়কর ও বিচিত্র এ গাভীর সন্ধান পাওয়া গেছে উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌর এলাকায় অবস্থিত একমাত্র সরকারি দুগ্ধ ও গবাদী পশু উৎপাদন খামারে। ইতোপূর্বে এ ধরনের ঘটনা দেশের কোথাও ঘটেনি বলে জানা গেছে। এমনকি ইন্টারনেট বিচরণ করে ২০১৬ সালে পশ্চিমাদেশের এক ব্যক্তিকে টুইটারে এ ধরনের একটি গাভীর ছবি পোস্ট দিতে দেখা গেছে। বলা যায়, ৬ বাঁট-ওয়ালা ওলান বিশিষ্ট গাভী এটিই দেশে প্রথম।
শুক্রবার সকালে খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের মিল্ক ম্যান পলাশ দুধ দোহন করছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন ৩লিটার করে দুধ দিচ্ছে গাভীটি। খামারে ১১২টি গরু রয়েছে এর মধ্যে ৩০টি গাভী দুধ দেয়। এত গাভীর ভীড়ে ওলানে বাঁটের সংখ্যা প্রত্যক্ষ করা না গেলেও দুধ দোহন করতে গিয়ে ওলানের ৬টি সচল বাঁট নজরে এসেছে। বিশ বছর চাকরি জীবনে তিনি এমনটা আগে কখনো দেখেন নি বলেও জানান।
এদিকে ইন্টারনেট ঘুরে http://www.dexters4u.com/2013/06/976/ নামক ওয়েব সাইটের লিঙ্কের একটি আর্টিকেল থেকে জানা যায়, গাভীর জিনগত সমস্যার কারণে দুধের বাঁট ৬টিও হতে পারে। অতিরিক্ত বাঁট দুটির দুধের প্রবাহ লাইন একই সারির দুধের বাঁট থেকে হয়ে থাকে। তাছাড়া এ ধরণের মাত্র একটি ছবিই ইন্টারনেটে পাওয়া যায় যা কিনা গ্লেন হিরাড নামক একজন টুইটারে https://twitter.com/glenherud/status/717162741765513217 পোস্ট দেন। এছাড়া দেশের কোথাও ৬ সচল বাঁট-ওয়ালা ওলান বিশিষ্ট কোন গাভীর তথ্য কিংবা ছবি পাওয়া যায়নি।
খামারের পশু উৎপাদন কর্মকর্তা স্বাদ মোহাম্মদ নেহাল উদ্দিন মিয়া জানান, ফিজিয়ান জাতের গাভীটির বয়স সাড়ে তিন বছর। ওজন অনুমান ২৫০ থেকে ২৭০ কেজি। প্রসব করা বাছুরটি ও গাভী উভয়ই সুস্থ ও সবল রয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছর চাকরি জীবনে এ ধরনের ঘটনা তিনি আগে কখনও দেখেননি বলে জানান।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর গৌতম বুদ্ধ দাশ ইত্তেফাককে বলেন, সচরাচর গাভীর চারটি দুধের বাঁট থাকলেও ৫টি দুধের বাট পর্যন্ত দেখেছি ও শুনেছি। তবে ৬টি দুধের সচল বাঁট থাকাটা বিরল ঘটনা। জিনগত সমস্যার কারণে এমনটা হয়েছে। এতে করে গাভীর কোন সমস্যা হবে না। ইতোপূর্বে এ ধরনের ঘটনা দেশের কোথাও ঘটেছে কিনা জানা নেই।
ইত্তেফাক/এমআই