বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাবালী

দেড় লাখ মানুষ সোলার নির্ভর

শুভ সিকদার, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাবালীকে উপজেলা ঘোষণার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুত্ পৌঁছেনি। ফলে এখানকার দেড় লাখের অধিক জনগোষ্ঠীকে সোলার (সৌরবিদ্যুত্) এ নির্ভর করে চলতে হয়। এখানকার স্বাভাবিক জীবনধারায় সোলার বিদ্যুতের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশের সকল প্রান্তে সরকারের বিদ্যুত্ ব্যবস্থা চালু থাকলেও এ উপজেলায় বিদ্যুতের কোনো কার্যক্রম পৌঁছেনি। এমন কি উপজেলার সব ধরনের কর্মকাণ্ড সৌরবিদ্যুত্ নির্ভরশীল হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নানা কাজ যা সৌরবিদ্যুতের দ্বারা সম্ভব নয়।

২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ সাত বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যুেসবা বঞ্চিত এই জনপদের মানুষ। বিচ্ছিন্ন এই উপজেলাটির দেড় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণের দাবি উপজেলাটি বিদ্যুতের আওতায় আনা হোক।

বিদ্যুত্ ব্যবস্থা না থাকায় শিল্প কলকারখানা স্থাপন করা মুখ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে হিমাগার না থাকায় তরমুজ, গোলআলু, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ ইত্যাদি কাঁচামাল প্রাপ্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে তারা পাচ্ছেন না তাদের কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ।

উপজেলার কাউখালী এলাকার তরমুজ চাষি নাসির হাওলাদার বলেন, প্রতি বছর আমরা লাখ লাখ টাকার তরমুজ চাষ করে থাকি। কিন্তু মাঝে-মধ্যে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে কম টাকায় তরমুজ বিক্রি করে হাজার হাজার টাকায় লোকসান দিতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে হিমাগার না থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলার কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার একটি মত্স্য আড়তের মালিক স্বপন সাহা বলেন, এখানে বিদ্যুত্ না থাকায় বরফকল স্থাপন করা হচ্ছে না। ফলে আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বরফ সংগ্রহ করতে হয়। যথাসময়ে বরফ না পেয়ে মাঝে-মধ্যে প্রচুর লোকসান হয়ে থাকে।

এ উপজেলার এক তৃতীয়াংশের বেশি লোক মত্স্য আয়ের উপর নির্ভরশীল। বরফকল না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা কলাপাড়া, গলাচিপাসহ জেলা সদর পটুয়াখালী থেকে অধিক মূল্যে বরফ সংগ্রহ করতে হয়। এমন কি সঠিক সময়ে বরফ সংগ্রহ না করতে পারায় খেসারত দিতে হয় লাখ লাখ টাকার মত্স্য সম্পদ। এ ছাড়াও উপজেলাটি দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার আওতাধীন থাকলেও বিদ্যুত্হীনতায় শিল্প কল-কারখানা স্থাপনে মুখ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আশাকরি প্রধানমন্ত্রী খুব দ্রুত এই উপজেলাকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসবেন।

পটুয়াখালী-চার (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিববুর রহমান বলেন, পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার পায়রা তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু হলেই মাটির তলদেশ দিয়ে খুব দ্রুত রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুত্ সংযোগ নিয়ে আসবো আমরা।