পরিবার হারিয়ে চার বছর হল তিনি মন্দিরের সেবাদাসী হয়েছেন। বিশ্বাসে ভর করে শুধুমাত্র সেবাদাসী হওয়ার জন্যই ঘরবাড়ি ছেড়ে ওড়িশা থেকে চলে এসেছিলেন মথুরায়। অথচ মথুরার সেই রাধারাণি মন্দিরেই গণধর্ষণের শিকার হতে হল তাকে। ধর্ষক ছিল মন্দিরেরই দুই কর্মচারী।
সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার বারসনায় রাধারাণি শ্রীজি মন্দিরে। ধর্ষিত নারীটির অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় কানহাইয়া যাদব নামে মন্দিরের এক নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজেন্দ্র ঠাকুর নামে আর এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রাজেন্দ্র মন্দিরের রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেন।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছরের ওই নারী ওড়িশার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তার স্বামী এবং পুত্র মারা যান। তার পরেই তিনি এই মন্দিরের সেবাদাসী হন। দিনে মন্দিরের কাজকর্ম করে রাতে তিনি মন্দিরের বারান্দাতেই ঘুমাতেন। রাত বাড়লে মন্দির চত্বর ফাঁকা হয়ে যায়। ১১ সেপ্টেম্বর ঘুমের মধ্যে মুখ চেপে ধরে জোরজবরদস্তি তাকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যায় মন্দিরের দুই কর্মী। সেখানেই তাকে গণঘর্ষণ করা হয় ।
ঘটনার পর দিনই ওই মহিলা মথুরা থানায় যান। কিন্তু অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী তার সঙ্গে অসহযোগিতা করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনার তিন দিন পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই মহিলার অভিযোগ নেয়।
মথুরা থানার এক অফিসার জানান, ভাষা সমস্যার জন্যই তারা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তাই নাকি অভিযোগ নেওয়া হয়নি।
মথুরার পুলিশ সুপার (রুরাল) আদিত্য শুক্লা জানিয়েছেন, ওই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ভাষা বোঝার জন্য অনুবাদক আনা হয়েছে। মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। পুলিশি অসহযোগিতার অভিযোগ সত্যি হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। হিন্দুস্তান টাইমস/আনন্দবাজার/এনডিটিভি।
ইত্তেফাক/রেজা