সুনামগঞ্জে হামলা-পাল্টা হামলা, বিএনপি নেতাসহ নিহত ২ ও আহত ৫০

 
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলা-পাল্টা হামলায় বিএনপি নেতাসহ ২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোন ধরণের পরিস্থিতি মোকবেলায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রমজান মাসে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উপজেলার গোরসপুরের আরজ আলী ও তার আত্মীয়-স্বজন মিলে বেরীগাঁওয়ের কাওছার মিয়াকে মারধর করেন। কাওছার দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার মিয়া আনুর ইফতার মাহ্ফিল থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর কাওছার দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ছাতক ছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরো বেড়ে যায়।
 
সুস্থ হলে শনিবার সকালে ছাতক থেকে ফেরার পথে প্রতাপপুর গ্রামে কাওছার, তার ভাই মাসুক মিয়া এবং তার ভাতিজা তারেকসহ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিপরীত পক্ষ বিএনপি নেতা শেরুজ্জামানকে বেধড়ক মারপিঠ করে। তবে তার পোস্ট-পদবী জানা যায়নি।
 
আহত শেরুজ্জামানকে (৪২) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথে মারা যান। তিনি গোরসপুর গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।
 
এ খবর গোরসপুরে পৌঁছালে শেরুজ্জামানের পক্ষের লোকজন প্রথমে চৌমোহনা পয়েন্টে কাওছারের দোকানে হামলা চালায়। পরে বেরীগাঁওয়ে গিয়ে এবাদুল হকের (৪০) উপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এবাদুল বেরীগাঁওয়ের মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে।
 
দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার সময় উভয়পক্ষের কমপেক্ষ ৫০ জন আহত হয়েছেন।
 
ঘটনাস্থলে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘হামলা-পাল্টা হামলা থামাতে পুলিশ ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- শেরুজ্জামানের ভাই শাওন মিয়া এবং তার আত্মীয় আব্দুল আউয়ালের ছেলে রাসেল মিয়া।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি