নারী উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিনটি হাট-বাজারে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর আরটিআইপি-২৬ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত তিনটি মহিলা মার্কেটের এখন বেহাল দশা। মার্কেটগুলো দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের উদাসীনতার কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে এখন ১টি মার্কেট পরিত্যক্ত আর ২টি বেদখলে রয়েছে। শুরু থেকেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দোকানগুলো অপেশাদার প্রভাবশালীদের নামে বরাদ্দ দেওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের কোথাও মহিলা মার্কেট কথাটি পর্যন্ত লেখা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার নারীদের হাতের তৈরি কুটির শিল্পের পণ্য সামগ্রী নারীদের দ্বারা বিপণন ও প্রদর্শন এবং গরিব অসহায় নারীদের স্ব্বউদ্যোগী করার লক্ষ্যে মহিলা মার্কেট করার প্রকল্প হাতে নেয়। সেই অনুযায়ী রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার, বাবুর হাট বাজার ও চরআবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় ৬ কক্ষ করে মোট তিনটি মহিলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে কোন ফাইল না থাকায় মার্কেটগুলো নির্মাণের সন তারিখ ও ব্যয় বরাদ্দ জানা নেই কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের। তবে তাদের ধারণা সম্ভাবত ২০০৬ থেকে ২০০৭ অর্থবছরের দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর মার্কেট তিনটি নির্মাণ করে। মার্কেটগুলো নির্মিত হওয়ার প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবতার নিরিখে সরকারি উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি।
সরেজমিন মার্কেটগুলোর অবস্থান দেখতে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার হায়দরগঞ্জ মাছ বাজার সংলগ্ন মহিলা মার্কেটটি মহিলাদের দোকানের পরিবর্তে এখন পুরুষ ব্যবসায়ীদের দখলে। একই অবস্থা খাসেরহাট বাজারের মহিলা মার্কেটটিরও। বাবুর বাজারে অবস্থিত মার্কেটটি বাজারের বর্জ্য রাখার স্থানে পরিণত হয়েছে। ওই মার্কেটটির বেহাল দশা না দেখলে বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে ফলে মহিলা মার্কেটগুলোর সব ক’টিই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন ভূঁইয়া জানান, অফিসে কোন ফাইল পাওয়া যায়নি বিধায় মার্কেটগুলো নির্মাণের সন তারিখ ও ব্যয় বরাদ্দ সঠিকভাবে জানা নেই। তবে সম্ভবত ধারণা করা হচ্ছে ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে । বেদখল প্রশ্নে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায় বলেন, এখানে কোথায় যে মহিলা মার্কেট রয়েছে আসলে এটাই আমার জানা নেই। তবে বর্তমানে মার্কেটগুলোতে যারা অবস্থানে রয়েছেন অচিরেই দায়িত্বে নিয়োজিত দপ্তরে সাথে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু