পাইকগাছার অবহেলিত সোলাদানা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের পারাপারে একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। এ ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের পারাপারের জন্য বিভিন্ন বদ্ধ নদী ও খালে কমপক্ষে ২০টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। এসব সাঁকো পার হয়ে এলাকার মানুষকে সম্পন্ন করতে হয় দৈনন্দিন কার্যক্রম। পর্যাপ্ত ব্রিজ-কালভার্ট না থাকায় বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
সূত্রমতে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে অনুন্নত ও অবহেলিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সোলাদানা ইউনিয়ন অন্যতম। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের প্রধান সড়কের উন্নয়ন ও বেশকিছু গ্রামে বিদ্যুত্ ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবহেলিত রয়েছে ইউনিয়নটি। ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক এখনো যেমন কাঁচা রয়েছে, তেমনি ইউনিয়নে রয়েছে অসংখ্য বদ্ধ নদী ও খাল। এ সকল নদী ও খাল পারাপারে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে নির্মাণ করা হয়নি ব্রিজ কিংবা কালভার্ট। ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০টি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হয়।
কুচিয়া নদীর উপর দক্ষিণ কাইনমুখী, টেংরামারী প্রাইমারি স্কুল, গোলবুনিয়া ভীম সরদারের বাড়ি, চারবান্দা শিবসা প্রাইমারি স্কুল, জেলা পরিষদ সদস্যের বাড়ি, তাটের খালে, বয়ারঝাপা সোলাদানা গ্রাম সংযোগস্থল, গোয়ালের খালের উপর বিমল সরদারের বাড়ি, আবু বক্কর গাজীর বাড়ি, বেতবুনিয়া খালের খাটুয়া আমির আলীর বাড়ি, ভাঙ্গাহাড়িয়া খালের আলহাজ লুত্ফার আলীর বাড়িসহ বিভিন্ন বদ্ধ নদী ও খালের উপর এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে তৈরি করা কমপক্ষে ২০টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। দক্ষিণকাইনমুখী, দীঘা, আমুরকাটা, চারবান্দা, গোলবুনিয়া, নতুন চক, টেংরামারী, উত্তর কাইনমুখী, পার বয়ারঝাপা, বেতবুনিয়া, খাটুয়ামারি, পাটনিখালী, সোলাদানা ও বয়ারঝাপাসহ ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এসব সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম করে থাকে।
দীঘা গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার্থী টুম্পা সরকার জানান, প্রতিদিন বই-খাতা নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। চারবান্দা গ্রামের গৃহবধূ নমিতা রানী জানান, প্রতিদিন সাঁকো পার হয়ে সুপেয় পানি আনতে হয়।
জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী জানান, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, গৃহবধূদের পানি আনা-নেওয়া, বাজার ঘাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সকল কাজ এলাকাবাসীকে সাঁকো পার হয়ে করতে হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী ও খালের উপর কমপক্ষে ২০টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসহ জেলা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা পরিষদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ১০টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু