মধুমতি নদীতে দুই জেলার চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের চর ভাটপাড়া থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের লংকার চর পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মধুমতি নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত আড়াই মাসের নদী ভাঙনে কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের পার করফা, লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের জয়বাংলা খেয়াঘাট ও লংকার চর গ্রামের শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিনশ বিঘা ফসলি জমি ও হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। অন্তত ৫০টি পরিবার ফসলি জমি, ফসল ও গাছপালাসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। গৃহহারা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, সরকারি স্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ওই তিন গ্রামের নদী ভাঙন এলাকার পাঁচশ বাড়ি-ঘর, দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যাম বাজার, একটি সমজিদ, হাজার হাজার একর ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত ১০ বছর আগে মধুমতি নদীর চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এ ভাঙনে থেমে থেমে পার করফা, জয়বাংলা খেয়াঘাট ও লংকারচর গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতি বছরই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। এ বছর ভাঙন সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।
নদী ভাঙনের শিকার পারকরফা গ্রামের আকরাম শেখ বলেন, জুলাই মাসে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নদীর পানি কমতে শুরু করায় ফের ভাঙন দেখা দেয়। এ ভাঙনে আমার বাস্তুভিটা চলে গেছে। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় বসত ঘরের টিন, চাল, আসবাবপত্র ও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এভাবে অন্তত ১০ বছরে নদী ভাঙনে তিনবার বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিয়েছি। এতে অর্থ ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছি।
নদী ভাঙনের শিকার উত্তর লংকারচর গ্রামের দেলোয়ারা বেগম বলেন, মধুমতি নদী আমাদের বাড়ি-ঘর, জমিসহ সব কিছু গ্রাস করে নিয়েছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই। রান্নাবান্নার ব্যবস্থা নেই। এখন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে। কেউ এসে পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তিনি নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউদ্দিন বলেন, মধুমতি নদীর কাশিয়ানী উপজেলার পারকরফাসহ আশপাশের ভাঙনকবলিত এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওই এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধে আমরা ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ ব্যাপারে আমরা প্রকল্প গ্রহণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। প্রকল্প পাস হলেই দ্রুত আমরা নদী শাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করবো।
ইত্তেফাক/নূহু