সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে পারে নারী আন্দোলনের হাতিয়ার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিকই আছে। নেতিবাচক বিষয়ে সচেতন থেকে এই মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে নারী আন্দোলনে যুক্ত করা যায় এবং এটা নারী আন্দোলনের হাতিয়ার হতে পারে বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক মতবিনিময় সভায় ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে নারীর অধিকার-মানবাধিকার বিষয়টি আমরা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি। গতকাল রবিবার সংগঠনের ৪৯তম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ‘নারী আন্দোলন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ বছর ‘আসুন যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলি’ স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে মহিলা পরিষদ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। আলোচক ছিলেন ডাটাসফট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহবুব জামান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি রিচার্স সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল্লাহ সাদেক, ফ্রিল্যান্সার হাবিবুর রহমান সোহন, ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী শাফকাত আলম আঁখি, মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ব্যান্ড দল এফ মাইনর।

আয়শা খানম বলেন, ২০০৮-এর একটি স্লোগান ছিল একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করতে হবে। মহিলা পরিষদ কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজ করতে পারে তা নিয়ে ভাবছে। আমাদের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে আরো বেশি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তাদের সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারবিধি আমাদের যথাযথভাবে জানতে হবে। আগামী বছর সংগঠনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সাথে নারী আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়শা খানম।

মাহবুব জামান বলেন, তরুণরা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো বুঝে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়ে অংশগ্রহণ করে। আমরা অনেকে বেগম রোকেয়া, বেগম সুফিয়া কামালকে দেখিনি; কিন্তু তাদের একটা বাণী বা ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারি; কিন্তু বাংলাদেশের নারী আন্দোলন তথা মহিলা পরিষদের অনলাইনে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাজ করে নেতৃত্ব দিতে পারে।

সাইফুল্লাহ সাদেক বলেন #মিটু বাংলাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সেখানে নারীরা তাদের নির্যাতনের কথা সাবলীলভাবে বলছেন যা আগে হয়তো কখনো কারো সাথে শেয়ার করেনি।

হাবিবুর রহমান সোহন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাস্তব জগত নয় তবে এর প্রতিফলন বাস্তব জগতে আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না তাদের চেয়ে অনেক বেশি সহমর্মী হন। অনেকেই আছেন যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত থাকেন।

শাফকাত আলম আঁখি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যে কর্মসূচিগুলো পালন করে তা যদি ফেসবুক লাইভ-এ দেখানো সম্ভব হয় তাহলে সকল সংগঠক কর্মীর মাঝে বার্তাগুলো সহজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

কানিজ ফাতেমা টগর বলেন, সুফল কুফল উভয় দিক বিবেচনায় রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নারী আন্দোলনে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে সেখানে মহিলা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ দেওয়া আছে। নারী আন্দোলনকে কুসংস্কারমুক্ত ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে হলে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার।

সভায় মহিলা পরিষদের একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, সংগঠনের সংগঠক ও কর্মীদের নিয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপ থাকা, মহিলা পরিষদের একটি ইউটিউব চ্যানেলে মানসম্মত কন্টেন্ট নির্ধারণ করে আপলোড করা, সংগঠনের ওয়েবসাইটে একটি ব্লগ যুক্ত করা, যেখানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখা দেওয়া এছাড়াও সংগঠনের একটি টুইটার একাউন্ট করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে তাদের মতামত জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।