এক মাসে চালের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ

চালের বাজারের অস্থিরতা কমছে না। গত এক মাসে মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতার দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ। মোটা ও সরু চালের দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। সরকারের বিপনন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবেই দাম বাড়ার এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ( ইরি, গুটি স্বর্ণা) ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, বিআর-আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৪ ও নাজিরশাইল ৬৮ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমদানি শুল্ক কমানোর পাশপাশি বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েও অস্থিরতা কমানো যাচ্ছে না। একটি সিন্ডিকেট কারসাজি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে অবৈধ মজুতদারদের ধরতে সারাদেশে সব চালের গুদামে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মিল মালিক, আমদানিকারক ও আড়তদারদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছাড়াও এই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম গতকাল                সোমবার সচিবালয়ে সাংবাকিদের বলেন, কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় বিভিন্ন মিলে অভিযান এবং ওএমএস চালুর ফলে বাজারে চালের দর একটু নিম্নমুখী।

রাজশাহীতে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল আটক, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহী থেকে আনিসুজ্জামান জানান, রাজশাহী মহানগরীর দুইটি চালকলে অবৈধভাবে মজুদ ৫ হাজার ৩১৪ বস্তা ধান-চাল আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার নগরীর সপুরা এলাকায় ‘হা-মীম’ ও ‘আসলাম’ চালকলে পৃথক অভিযান চালিয়ে মজুদ চাল আটক ও জরিমানা করা হয়।

তিনি জানান, এ দুটি মিলের কোন বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। অবৈধভাবে তারা চাল উত্পাদন করে মজুদ করে রেখেছে। তাদের মিলে উত্পাদিত চালের বস্তায় কুষ্টিয়ার আব্দুর রশিদের মেসার্স হালিমা অটো রাইচ মিলের স্টিকার লাগিয়ে বাজার জাত করে থাকে। এছাড়াও ওই দুইটি রাইচ মিলে কয়েক হাজার বস্তা ধানও মজুদ রয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ‘হা-মীমে’র ম্যানেজার ফয়সালকে ৫০ হাজার এবং আসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উভয়ে জরিমানার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে মুক্তি পায়।

আমদানীকারকরা চালের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে

অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, গোডাউনে লাখ লাখ টন ধান ও চাউল মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে মজুতদার, আড়তদার, রাইসমিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট দায়ী বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে। নওয়াপাড়ায় প্রতি কেজি এলসির মোটা চাউল ৬০ থেকে ৬২/টাকায়, ২৮ চাউল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নওয়াপাড়ার চাউল আমদানীকারক মেসার্স মজুমদার ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী আদিত্য বাবু, জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিঃ এর ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রহমান ও অন্যান্য পরিবেশকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েকটি বিশেষ কারণে চাউলের দাম বাড়ছে। এগুলো হল- চাহিদা- জোগান ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় না থাকা, রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ও মটর শ্রমিকের চাঁদাবাজি, বন্দর্রে ক্লিয়ারেন্সের সমস্যার ফলে পণ্যবাহী যানবাহনগুলোর দীর্ঘ সময় আটকে থাকা, বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা দিয়ে সোনাদিয়া হিলিপোর্ট দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ার কারণে চাউলের দাম বেড়েছে।

মিলগুলোতে মজুদ তদারকি নেই

দিনাজপুর অফিস থেকে মতিউর রহমান জানান, পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকার পরও বাজারে ইচ্ছামত চালের দাম বৃদ্ধি করেছে মিল মালিকরা। এদিকে সরকারী বোরো সংগ্রহ অভিযানে দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ মিল মালিকই সরকারের সাথে চাল সরবরাহের চুক্তি না করলেও এখন ব্যবসায়ীদের কাছে বেশী দামে বিক্রি করছে চাল। এ ক্ষেত্রে ধান ক্রয় ও উত্পাদন খরচ ধরেও প্রতিকেজি চাল ২০ টাকা বেশী দরে বিক্রি করছেন তারা। এ কারণেই বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে চালের দাম।

চাল ব্যবসায়ীরা জানান, কোন মিলে চাল নেই-এমন কথা বলছেন না মিল মালিকরা। বেশী টাকা দিলেই মিলছে চাল। প্রতিটি মিলে বিপুল পরিমান ধান ও চাল মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে চাল ব্যবসায়ীরা। সরকারী নিয়ম থাকলেও মিলগুলোতে করা হচ্ছে না মজুদ তদারকি। ফলে প্রশাসনও জানেনা চালকলগুলোতে কি পরিমান চাল মজুদ রয়েছে।

সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারনেই বেড়েছে চালের দাম। এক্ষেত্রে মিল মালিকদের কোন কারসাজি নেই।

ইত্তেফাক/নূহু