কলারোয়ায় খালে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের

ছয় গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতা

কলারোয়ায় সরকারি খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। আর এতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছয়টি গ্রাম। খালটি উন্মুক্ত করা না গেলে হাজার বিঘা জমিতে রবি শস্য উত্পাদন করা থেকে বঞ্চিত হবে ছয়টি গ্রামের শতাধিক কৃষি জমির মালিক।

উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রপাড়া খালটি কপোতাক্ষ নদের সঙ্গে সংযুক্ত। দেশ স্বাধীনের আগে থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এলাকার প্রায় ১০টি গ্রামের অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কপোতাক্ষ নদে পড়তো। খালটির কারণে এলাকা থাকতো জলাবদ্ধতামুক্ত। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র এ খালটি এলাকার কৃষিসহ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে আসছিল। এক সময়ের প্রবহমান খালটি রান্নাসহ সব কাজের জন্য সুপেয় পানি, গোসলসহ কৃষি কাজে সহায়তা করে আসছিল। খালটি গভীর হওয়ায় বিল মাছের অভয়াশ্রম হিসেবেও পরিচিত ছিল। খাল পাড়ে নানা সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতো এলাকার অল্প আয়ের মানুষ।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০০ সালের বন্যার পর কপোতাক্ষ নদ পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। সে সময় খাল দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিত্যক্ত হয়ে একটু একটু করে দখল হতে থাকে খালটি। সুযোগ বুঝে প্রভাবশালীরা দখল করে মাছ চাষ শুরু করে।

সাম্প্রতিক সময়ে কপোতাক্ষ নদটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পুনঃখনন করা হয়। কপোতাক্ষের সংযোগ ক্ষেত্রপাড়া খালটিও এলজিইডির অর্থায়নে পুনঃখনন করা হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি কোথাও জমে থাকে না। জলাবদ্ধতা মুক্ত হয় এলাকা। এলাকার কৃষকরা বুক বাঁধে নতুন আশায়। সে সময় ফসল উত্পাদনের স্বার্থে খালটি ফের দখল করে মাছ চাষ না করার জন্য অনুরোধ করা হয় এলাকার সবাইকে।  

প্রভাবশালীরা নতুন করে গত সাত/আট মাস আগে অনুরোধ না শুনে খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে দিয়েছে। ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের ফজর আলী গাজীর বাড়ির সামনে ব্রিজের পূর্ব পাশে মাটি ও বাঁশ দিয়ে বড়ভেড়ি বাঁধের মতো করে পানি আটকানোর জন্য বাঁধ সৃষ্টি করা হয়। এলাকার প্রভাবশালী এক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন মিলে খালের পশ্চিম দিকের বিলে ফের মাছ চাষ শুরু করেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার ফলজ বৃক্ষ কাঁঠাল, আম, জামসহ বিভিন্ন গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া গাজনা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও গত দুই/তিন মাস যাবত্ পানিতে দুই ফুট নিমজ্জিত থাকায় শিশুদের লেখাপড়া বিঘ্ন হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাশের উঁচু রাস্তার উপর বসে লেখাপড়া করে।

কৃষকরা জানায়, খালের একটি মাত্র বাঁধের কারণে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার ফসলি জমি পানির তলে নিমজ্জিত থাকে। কাজ করতে না পেরে কৃষকরা বেকার হয়ে পড়েছে। মানুষসহ গবাদি পশুরও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ঘের মালিকরাই খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে রেখে এসব কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এলাকার কৃষকরা বাঁধটি কেটে দিয়ে ঘের মালিকদের নেট বা পাটা ব্যবহার করার জন্য বার বার অনুরোধ করলে তারা কৃষকদের মারপিটসহ জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/নূহু