ইত্তেফাক রিপোর্ট
ব্রিটিশমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাচ্ছে। এখন যুক্তরাজ্য চাইছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যসম্ভাবনা খুঁজে বের করতে। ব্রেক্সিটের পরেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক মনোভাবের পরিবর্তন হবে না। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট -দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনারে ব্রিটিশ মিনিস্টার অব স্টেট ফর এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক এট দ্য ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিস মার্ক ফিল্ড এ কথা বলেন।
পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ব্রিটিশমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড কি-নোট উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মানুষের যোগাযোগ অনেক বেশি। ব্রিটেনে এখন ৬লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক রয়েছেন যাদের বৃহত্ অংশ লন্ডনে বাস করছেন।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে একটি ভাইব্রেন্ট নাগরিক সমাজ দেখতে চাই। সেইসঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, মুক্ত গণমাধ্যম। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমরা এই বিষয়গুলো অনুপস্থিত দেখতে পেয়েছি। তার মতে উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকলে ভোটাররা ভিন্ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হতে পারে।
এইচ টি ইমাম বলেন, আমরা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন করার চেষ্টা করেছি। একটি অবাধ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এই কাজটি করা অনেক কঠিন ছিল। তিনি বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সুশাসন শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করেই হবে না, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। ড. মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে দুটি পথের একটি বেছে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র না উগ্রপন্থি রাষ্ট্র। এজন্য সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ সরকারকে বেছে নিয়েছে।