ডাক্তার হতে না পারায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ

মেডিকেল পরীক্ষায় টানা তিনবার ফেল করার অপরাধে ভারতীয় এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ভয়ঙ্কর এ ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির তেলেঙ্গানা রাজ্যে। এ ঘটনায় হায়দরাবাদের অদূরে নাগোল এলাকার রক টাউন কলোনি থেকে ওই গৃহবধূর স্বামীসহ তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
সাইবারাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলার কুসুমাঞ্চি গ্রামের গৃহবধূ ২৪ বছরের কে হরিকাকে তার স্বামী রবিবার রাতে শ্বাসরোধ করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। লাল বাহাদুর নগরের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার পি বেনুগোপাল রাও জানিয়েছেন, হরিকার স্বামী রুশি কুমার বি টেক পাশ করেছেন। কিন্তু, এই মুহূর্তে কোথাও কাজ করতেন না। বছর দুয়েক আগে তদের বিয়ে হয়। নাগোল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তারা।
IMG0
হরিকার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপর পণ নিয়ে অত্যাচার চালাতো রুশির পরিবার। পাশাপাশি তাকে ডাক্তার হওয়ার জন্য চাপ দিতেন রুশি কুমার। কারণ, স্ত্রী-র রোজগারের টাকায় সচ্ছল জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি। এমনকী, এমবিবিএস পরীক্ষায় কৃতকার্য না হলে তাকে ডিভোর্সও দেবেন বলে হুমকি দিতেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ পুলিশের। চলতি বছরে ফের এমবিবিএস পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন হরিকা। তবে ডেন্টাল সার্জারিতে স্থানীয় এক বেসরকারি কলেজে সুযোগ পেলেও, তাতে রুশি কুমার রাজি হননি।
 
ওই গৃহবধূর পড়শিরা জানিয়েছেন, রবিবার রাত ৮টা নাগাদ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রবল ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো চিৎকার শুনতে পাননি বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন তারা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আগুন ধরানোর আগে হরিকাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন রুশি। এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক/সেতু