এখনো দেখা মেলে ডুবুরি মাটিয়ালের

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এখনো দেখা মেলে ডুবুরি মাটিয়াল শ্রমিকদের। তারা জলাশয়ে ডুব দিয়ে নিচ থেকে মাটি তুলে এনে নৌকায় ভরছেন আর সেই মাটি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
 
রূপগঞ্জ উপজেলার ভিংরাব এলাকায় কথা হয় ডুবুরি মাটিয়াল আয়নাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ডুবুরি মাটিয়াল হিসেবে বিগত ৩০ বছর যাবৎ কাজ করছেন। সাধারণ মাটি কাটা শ্রমিকের তুলনায় ডুবুরি হিসেবে কাজ করলে বেশি শ্রমমূল্য পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, সাধারণ শ্রমিক দিনে মজুরি পান ২শ থেকে ৪শ টাকা। আর ডুবুরি মাটিয়াল দৈনিক পান  ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা মজুরি। তবে মাঝে মাঝে ডুব দিয়েও মাটি পাওয়া না গেলে তাদের বেকার থাকতে হয়। শ্রমিক আয়নাল আরো জানান, একটি ডিঙ্গি নৌকা বোঝাই মাটি বিক্রি করলে পাওয়া যায় ২ হাজার টাকা। এতে  মাটি ক্রয় ও নৌকা খরচ বাদ দিলে তার লাভ থাকে প্রায় ১২শ টাকা।  উপজেলার মধুখালীর ডুবুরি মাটিয়াল শ্রমিক মোস্তফা মিয়া জানান, এক দশক পূর্বে মধুখালী, ব্রাহ্মণ ও গুতিয়াব এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২৫টি টিলা কেটে ঢাকার নিচু এলাকা ভরাট করেছে  বেশ কয়েকটি আবাসন কোম্পানি।
 
একসময় রূপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের উঁচু টিলা ও ক্ষেত খামারের জমির মাটি কেটে এনে তা ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় নিচু এলাকা যেমন, ডেমরা, রামপুরা, বাড্ডা, খিলক্ষেত ও বসুন্ধরা এলাকায় ড্রেজিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে মাটির চাহিদা কমে গেছে। ড্রেজিং-এর মাধ্যমে বালু সংগ্রহ করে জলাশয় ও নিচু এলাকা ভরাট করছে আবাসন কোম্পানিগুলো। তা ছাড়া উঁচু জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিচু এলাকা ভরাট করার মতো মাটিও এখন আর সহজে মিলছে না।
 
ইত্তেফাক/এমআর