লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সেখানে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বহরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা তাদের শান্তিরক্ষা বাহিনীকে তিউনিশিয়ায় স্থানান্তর করেছে। বিবিসি’র খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জেনারেল খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্ব লিবিয়ার বিদ্রোহী বাহিনী লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখলের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। জাতিসংঘ সমর্থিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাফতারকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তিনি ক্যু করার চেষ্টা করছেন এবং বিদ্রোহীদের মোকাবেলা করা হবে। ২০১১ সালে সাবেক শাসক মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটিতে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, জেনারেল হাফতার চারদিন আগে ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনা অভিযান শুরু করেন। এখন ত্রিপোলির প্রবেশমুখে ব্যাপক লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড সাময়িকভাবে তাদের সেনা কন্টিনজেন্টকে স্থানান্তর করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ত্রিপোলি থেকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত ১৫টি কন্টিনজেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতালির বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি এনি লিবিয়ায় থাকা সকল ইতালি কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসংঘও প্রয়োজন নেই এমন কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে। নিরাপত্তা সংকটের মুখে ত্রিপোলির বাসিন্দারা এখন খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। যদিও লুটপাটের ভয়ে সংঘর্ষ কবলিত এলাকার অনেক বাসিন্দা এখনো নিজেদের বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
খবরে আরো বলা হয়েছে, গতকাল রবিবার ত্রিপোলির দক্ষিণে অব্যবহূত বিমানবন্দরের কাছে লড়াই চলেছে। এর আগে জেনারেল হাফতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এলাকাটি তারা দখল করেছে। হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) ত্রিপোলির দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে বহুমুখী হামলা চালাচ্ছে। তবে জাতিসংঘ সমর্থিত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড (জিএনএ) তাদের গতি ধীর করে দিয়েছে। সরকারি বাহিনী শনিবার দক্ষিণ ত্রিপোলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সিরাজ বলেছেন, রাজধানী ত্রিপোলিকে তিনি রক্ষা করবেন। জেনারেল হাফতার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।