কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট, রুল হাইকোর্টের

বরগুনার তালতলীতে স্কুলের বিম ভেঙে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল রবিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্ট দুটি রিট দায়ের করা হয়েছে। একটি রিটে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা অপর একটি রিটের শুনানি শেষে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ কেন প্রদান করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। শিক্ষা সচিব, বরগুনার জেলা প্রশাসক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম মাইনুল ইসলাম।

অন্য রিটে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ও আহত শিক্ষার্থীদের দশ লাখ টাকা করে দিতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন জরিপ করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে। কোন ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও কোনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ নয় তা চিহ্নিত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আজ সোমবার এই রিটের শুনানি হবে। রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান তারেক পলাশ। মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনে’র পক্ষে রিটটি সংশ্লিষ্ট আদালতে শুনানির জন্য অনুমতি চেয়েছেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব।

শনিবার বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদের বিম ধসে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানসুরা বেগম নিহত ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে এসব রিট করা হয় বলে জানান আইনজীবীরা।

এদিকে বিম ভেঙে ছাত্রী মৃত্যুর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুজ্জাম্মিল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদ্যালয় নির্মাণ ও মেরামত সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন।

দুই তদন্ত কমিটি

ছাদের বিম ধসে পড়ে ছাত্রী নিহতের ঘটনায় গতকাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  এর মধ্যে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির আহবায়ক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাবের হোসেন। এছাড়া পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাহবুব আলমকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীর লাশ দাফন

বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি ও তালতলী সংবাদদাতা জানান, শনিবার সন্ধ্যার পরে মানসুরার মরদেহ গেন্ডামারা গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। গতকাল নিহত শিক্ষার্থী বাড়ি ও আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে আমতলী হাসপাতালে যান বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক (শিক্ষা) এএসএম ফারুকসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা নিহত মানসুরার পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দেন।  আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা আহত শিক্ষার্থী রুমা, সাদিয়া ও ইসমাইল এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। 

বরগুনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাহবুব আলম জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

স্কুলভবনটি নির্মাণের পরপরই বিমে ফাটল ধরে

বিদ্যালয় ভবনটি ২০০২ সালে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মালিকানাধীন সেতু এন্ট্রারপ্রাইজ নির্মাণ করে। নির্মাণের পরপরই বিমে সামান্য ফাটল ধরেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদারের অনিয়ম ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উদাসীনতার করণে শ্রেণিকক্ষেই নিভে গেছে একটি তরতাজা শিশুর প্রাণ। এদিকে ঘটনার একদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ করেনি কেউ। তালতলী থানা পুলিশ তিনটি কক্ষ সিলগালা করে দিলেও স্কুল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। ছাত্র-ছাত্রীরা গতকাল স্কুলে আসেনি।

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।