নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তাগিদ দেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি। তিনি মাদকবিরোধী অভিযানের মতো ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধেও দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান উন্নত দেশগুলোতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে যেহেতু সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেহেতু সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের স্ব স্ব কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় যেহেতু জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট, তাই এই মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এই মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কাজে সমন্বয় করা হবে। দেশে দ্রুত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। আসন্ন রমজান মাসে অহেতুক খাদ্যের দাম না বাড়াতে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। গতকাল সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে শূন্যপদের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। এসময় নিয়োগবিধি সংশোধন ছাড়াও নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম শ্রেণির ১৯টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৪টি, তৃতীয় শ্রেণির ১৭টি এবং চতুর্থ শ্রেণির তিনটিসহ মোট ৫৩ পদ শূন্য রয়েছে। খাদ্য অধিদফতরে প্রথম শ্রেণির ৩১৯, দ্বিতীয় শ্রেণির ৫৫৪, তৃতীয় শ্রেণীর দুই হাজার ৫৮০ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ১৩৭৩টিসহ মোট ৪৮২৬ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে প্রথম শ্রেণির ১১, তৃতীয় শ্রেণির ১১৮ এবং চতুর্থ শ্রেণির ৮০টিসহ (আউট সোসিং) মোট ৩১৬ পদ শূন্য রয়েছে। খাদ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরী এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে বেগবান করতে জনবল সংকট নিরসনে শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পবিত্র রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের জন্য সুপারিশ করা হয়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের সুপারিশ করা হয়। ধান, গম ও অন্য খাদ্যশস্যের প্রকৃত সরকারি ধার্যমূল্য যাতে কৃষক পায় সে জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদারসহ বিদেশি চাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়েও মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয় কমিটি। দেশে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম খাদ্য সংকট তৈরি না হয় সেজন্য চাল মজুদের ক্ষেত্রে যে হিসেব প্রদর্শন করা হয় এবং প্রকৃতপক্ষে গুদামে চালের সেই পরিমাণ মজুদ আছে কি না বা সরবরাহ হচ্ছে কি না সে বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারিতে রাখতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিটি সভাপতি মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মো. আতিউর রহমান আতিক, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, মো. আব্দুল হাই, মো. আয়েন উদ্দিন, আতাউর রহমান খান, আঞ্জুমান সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।