ইত্তেফাক রিপোর্ট
গতকাল দিনভর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুচিকিত্সা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি, ২০ দলীয় ঐক্যজোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মীরা গণঅনশনের কর্মসূচি পালন করেছে। অনুষ্ঠানে নেতারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে বলে জানান। তারা বলেন, ঘোষণা আসবে প্রস্তুতি নিন। দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে। তুমুল আন্দোলনের মধ্যে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। অনশন ও মানববন্ধন করে এদের ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়। তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে আনি। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত চলে গণঅনশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ পানি পান করিয়ে নেতাদের অনশন ভাঙান। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ। বিএনপির বেশির ভাগ নেতা ও জোটের শরিকের অনেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচির বিরোধিতা করে বলেন, এমন গণঅনশন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। এসব কর্মসূচিতে তার মুক্তি মিলবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গায়ের জোরে সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। মওদুদ বলেন, আদালতে সরকারের প্রভাব থাকায় আইনি পথে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, আন্দলনের ঘোষণা আসবে প্রস্তুতি নিন। দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের নেত্রী জনগণের মাঝে আসবে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে। কারো অনুকম্পা চাই না। মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তুমুল আন্দোলনের মধ্যে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ লোক রাস্তায় নামলে আওয়ামী লীগ পালাবার পথ খুঁজে পাবে না। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজ গণতন্ত্র আর খালেদা জিয়া এক কথা। বিএনপি আন্দোলন না করলেও বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। যে আদালতে যে বিচারক তাকে শাস্তি দিয়েছেন সেই বিচারকের জনগণের আদালতে শাস্তি হবে। আ স ম আব্দুর বর বলেন, এখানে হলরুমে বসে এক হাজার লোক জীবন দিলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে একসঙ্গে লড়ব। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মোস্তফা মোহসিন মন্টুসহ আমরা সবাই এক আছি। ভুল বুঝাবার কোনো কারণ নেই। আমাদের সাত দফার প্রথম দাবি হলো বেগম জিয়ার মুক্তি।
বিএনপি অফিসে রিজভীর অনশন পালন: এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচির অংশ হিসাবে নয়া পল্টনে বিএনপির অফিসে নেতা-কর্মী ও স্টাফদের সঙ্গে নিয়ে অনশন করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে অনশনে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।