প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও ব্যবহারে শতভাগ ক্ষমতা পেলেন পিডিরা

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের সর্বময় ক্ষমতা পেলেন প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি)। এখন থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন বা সম্মতি ছাড়াই সরকারি তহবিলের (জিওবি) অংশের শতভাগ অর্থ ছাড় করতে পারবেন তারা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা হতো চারটি কিস্তিতে। যার জন্য অর্থবিভাগ ও প্রকল্প সংশ্ল্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধতা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের কাজে গতি আনতে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল পিডিদের। আর তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন গতিশীল করতে অর্থ ছাড় ও ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের পুরো অংশ পরিচালকরাই ছাড় করতে পারবেন। এজন্য অর্থবিভাগ কিংবা প্রকল্পের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে না। তবে প্রকল্পের শুল্ক ও ভ্যাট এবং ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয়ে যে অর্থের প্রয়োজন হবে তা প্রকল্প পরিচালকরা ছাড় করতে পারবেন না। আর প্রকল্প সাহায্যের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বর্তমান যে নিয়ম রয়েছে তাই বহাল থাকবে। অর্থাত্ ঋণ ও অনুদান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার শর্ত এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে অর্থ ছাড় হবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত কর্তৃত্ব অনুযায়ী মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদফতর/ পরিদফতর/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন অনুমোদিত প্রকল্পের জিওবি অংশের বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অর্থবিভাগ এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগের কোনো সম্মতির প্রয়োজন হবে না। ওই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় হয়েছে বলে গণ্য হবে। প্রকল্প পরিচালকরা এ অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।