অভিনেত্রী কুসুম শিকদার। অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি গানও করেছেন তিনি। এরপর গানের মিউজিক ভিডিও নিয়ে মাঝে সমালোচিত হন তিনি। সার্বিক এই বিষয়গুলো নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
ক্যারিয়ারে গানটা ছিল আপনার প্রথম। এরপর দীর্ঘ বিরতি নিয়ে আবারও গানে ফিরলেন—
না, আমি আসলে ফিরিনি। বলতে পারেন, আমি এমনই। খুব বেশি কাজ কখনোই কোনোদিন করিনি। আমি বেছে বেছে সবসময় কাজ করেছি। এখনও তাই। অনেকদিন পর আসলে গানে ফেরা হলো এটা ঠিক।
আপনার ‘নেশা’ গানটি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অশ্লীলতার দায় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
আমার জন্য বিষয়টি অবাক করার মতো ঘটনা। কারণ অনেক অনলাইন পোর্টাল আমার সাথে কোনো কথা না বলেই লিখে দিয়েছে। একজন সিনিয়র অভিনেত্রী হিসেবে এই দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলতেই পারি। আমি তাই খুবই অবাক হয়েছি।
এছাড়াও আপনার গানের লিরিকেও অশ্লীলতার অভিযোগ তোলা হয়েছে—
এটা আমার কাছে সবচেয়ে হাস্যকর। কারণ একটা তথ্য বলি, তা হলো নেশার লিরিকটা আমার এবং লেখাটি আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। যে কাব্যগ্রন্থ আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছে। অথচ সেই লিরিকেই কি-না এমন অপবাদ!
এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই বলছেন যে, একটা মিডিয়া হাইপ তোলার জন্য বিষয়গুলো করা হচ্ছে—
এর কোনো ভিত্তি কেউ খুঁজে পাবেন না। কারণ দীর্ঘদিন কাজ করছি। একাধিক নাটকের কাজ করেছি। যে ৩টি চলচ্চিত্র করেছি, সেটাও বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত। আর আমি গৌতম ঘোষ স্যারের ‘শঙ্খচিল’-এ কাজ করেছি।
সুতরাং আমার দর্শকদের এটুকু আস্থা নিশ্চয়ই আছে যে, কুসুম অন্তত এমন কাজ করবে না, যা আপত্তিকর। আর ধরুন, আমি অন্য দেশের কোনো লেবেলের যদি কাজ করতাম তখন কাকে অভিযোগ জানাতো...! আমি তো ইউটিউবের মতো গ্লোবাল প্লাটফর্মে গানটি রিলিজ দিয়েছি। কিন্তু কোনো হতাশা কাজ করেনি, এসব খবরে...।
পরিবারও নিশ্চয় কষ্ট পেয়েছে—
দেখেন, আমি খবরগুলো পড়ে সারারাত কেঁদেছি। ভেবেছিলাম ইন্ডাস্ট্রিই ছেড়ে দেবো। কিন্তু তখন মনে হয় যে দেশে আইয়ুব বাচ্চুর মতো লিজেন্ড তারকারা বলেন গান ছেডে দেবো...! কতটা দুঃখ নিয়ে তারা বলেন। চিন্তা করেছেন...! তাই আমি মনে করি, মিডিয়ার পাশাপাশি দর্শকদেরও দায়িত্ববোধ থাকা উচিত।
ইত্তেফাক/আনিসুর