চাঁদা না দেওয়ায় দোকান মালিককে সিগারেটের ছ্যাঁকা

 
রাজধানীর চানখাঁরপুলে বনফুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিককে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এতে বাধা দিতে গিয়ে দোকানের ম্যানেজারও মারধরের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার একদিন পার হলেও ছাত্রলীগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
 
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাবির পার্শ্ববর্তী চানখাঁরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটান ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হোসেন, ঢাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মাসুদসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। চাঁদা না দেওয়ায় এমন ব্যবহার করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মাসুদ ঢাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে এখনো তিনি ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে থাকেন।
 
বনফুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে একজন কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাতে বনফুলে মিষ্টি খেতে যান রাকিব হোসেন ও মাসুদ। মিষ্টি খাওয়ার পর তারা ওই দোকানের মধ্যে সিগারেট ধরান। দোকানের মধ্যে এসি থাকায় তাদেরকে সিগারেট ধরাতে নিষেধ করেন দোকানের মালিক আল আমিন। এসময় আল আমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেন তারা। খবর পেয়ে ক্যাম্পাস থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিজ্ঞানবিষয়ক উপসম্পাদক আরিফুল ইসলাম জিসানসহ আরো কয়েকজন নেতাকর্মী দোকানে যান। তারা দোকানের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিনকে মারধর করে উঠিয়ে নিয়ে যান।
 
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব হাসান ও মাসুদের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যভাবেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 
এ বিষয়ে ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক সিসিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঘটনার সময়ে আমি বাইরে ছিলাম। পরে শুনেছি। আমি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তারা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিবো।
 
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এমআর