একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বগুড়ায় এবারো জয় পেতে মরিয়া আওয়ামী লীগ

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের অন্যান্য অংশের মতো বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলে এখন নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা। নড়েচড়ে বসেছেন মন্ত্রী-এমপিরা। জনগণ ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা না হলেও নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যোগদান, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি গণসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এজন্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত বগুড়া। তবে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগ, একটিতে জাসদ ও অন্য চারটি আসনে জাপার প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। এর মধ্যে পাঁচটিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জাপার ৪ ও জাসদের ১ জন প্রার্থী। তাই এবারের নির্বাচনে বগুড়ার হারানো ‘দুর্গ’ পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। অন্যদিকে এবারো সেখানে জয় পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আর জাপা-জাসদও জনসংযোগ বাড়িয়েছে।

বগুড়ার ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পরেই তৃতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় আগামী নির্বাচন নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে সদর আসনে কোনো প্রার্থী না দিলেও জেলার অপর চারটি আসন নিয়ে                 তারা বিএনপির সঙ্গে দর কষাকষি করবে বলে জানা গেছে।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শুভেচ্ছা ও গণসংযোগের মধ্যে দিয়ে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের  প্রস্তুতির জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্ম ভূমি বগুড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়ি। এ জেলার ৭ আসনে তাই শক্তিশালী প্রার্থীদের আনাগোনাও বেশি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এমপি, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, জাপার ভাইস চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, যুগ্ম মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাসদের সহ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন এমপি তারা সকলেই এবার নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আসন্ন নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। বেশ কয়েকটি আসনে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

ইত্তেফাক/নূহু