হাতিরঝিলের মত দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে পূর্বাচল খাল। ইতোমধ্যেই রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের দুইপাশে ১০০ ফুট চওড়া খালের খনন কাজ শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই থেকে এই খনন কাজ শুরু হয়। রাজউকের চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো.আবদুর রহমান বলেছেন, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের দুইপাশে ১০০ ফুট চওড়া খালের খনন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দেড় বছরের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এতে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। সর্বোপরি হাতিরঝিলের মত দৃষ্টি নন্দন করা হবে পূর্বাচলের এই খালকে।
প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, রাজধানীকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্ত করতে খাল খনন প্রকল্পটি সরকারের একটি প্রশংসনীয় ও সাহসী উদ্যোগ। এই খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচলসহ রাজধানীর জলাবদ্ধতা বহুলাংশে কমে আসবে। তিনি নগরীর মধ্যদিয়ে প্রবহমান খালগুলোও অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধারের দাবি জানান।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে খ্যাত নিকুঞ্জ, বারিধারা, জোয়ারসাহারা, ডিওএইচএস, ঢাকা সেনানিবাস, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুরসহ সংলগ্ন কুড়িল ও পূর্বাচল এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ঢাকা মহানগরীর এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে জনগণকে প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর জনগণের দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা বহুলাংশে কমে আসবে। এতে লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।
পূর্বাচল খাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। অধিগ্রহণ বিল বিতরণ শেষ হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ২৮৬ দশমিক ৯১ কোটি টাকা। তার মধ্যে চার হাজার ৩৮৪ দশমিক ১৮ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির অধীনে ১৩ দশমিক ৬৪৩ কিলোমিটার খাল, ১৩ কিলোমিটার সার্ভিস রোড, ৩৯ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, চারটি ইউলুপ, খালের ওপর ১৩টি আর্চওয়ে ব্রিজ তৈরি করা হবে।
এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে ফুটওভার ব্রিজ চারটি, ২৬ হাজার লেনিয়া মিটার, এস এস পাইপসহ ফেন্সিং, একটি পাম্পহাউজ, দুই হাজার ২৭০টি স্ট্রিটলাইট, ১২টি ওয়াটার বাস স্টপ নির্মাণ করা হবে।
রাজউক সূত্র জানায়, বোয়ালিয়া খালের উভয় পাশে ওয়াকওয়েসহ খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণ এবং ১৩ কিলোমিটার ঘাস ও গাছ লাগানোর মাধ্যমে প্রকল্পটি দৃষ্টিনন্দন করা হবে। যেখানে ৯০ দশমিক ১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের কার্যক্রম চলছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুড়ির ফ্লাইওভারের চার পাশে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। এ ছাড়া কাঞ্চন ব্রিজ হতে কুড়িল পর্যন্ত উচ্চ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার যানবাহনের সংমিশ্রণে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। খালের উভয় পাশে কার্যকরী জলপরিবহন ব্যবস্থা, খালের সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি উন্নয়নসহ সৌন্দর্য বর্ধন হবে।
ইত্তেফাক/এমআর