চাঁদপুর শহরের বিআইডাব্লিউটিএর মোড় থেকে শুরু করে ট্রাকঘাট হয়ে লন্ডনঘাট পর্যন্ত বিশাল এলাকা অবৈধভাবে দখল করে ইট, বালু, কংক্রিট ও সিমেন্টের ব্যবসা করে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের এ ব্যবসার কারণে ডাকাতিয়া নদী দখলসহ এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে। ধূলা-বালির কারণে পথচারী, স্কুল ও কলেজগামী শিশু ও বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। স্তূপ করে রাখা বালুর কারণে ক্ষতি হচ্ছে পার্শ্বের ১৫০ মেঘাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র। এলাকায় সরেজমিনে সোমবার দুপুরে ওই এলাকা ঘুরে ডাকাতিয়া নদীর পাড় দখল আর ব্যবসায়ীদের স্তূপ করে রাখা ইট, বালু ও কংক্রিট-এর চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২০১৪ সালে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এ এলাকাটি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। এরপর বিআইডাব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ কাঁটাতারের প্রাচীর করে। সাধারণ মানুষ নদীর পাড়ে বসার জন্য মাচাও তৈরি করা হয়। কিন্তু বছর শেষ না হতেই আবার এলাকাটি বেদখল হয়ে পড়ে।
ট্রাকঘাট এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়াজী জানান, এ এলাকায় দুই শ্রেণির ইট বালুর ব্যবসায়ী রয়েছেন। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী শুধু সড়ক পথে মালামাল বিক্রির ব্যবসা করেন। আবার আরেক শ্রেণি নদীপথে এনে পাড়ে মালামাল রেখে চলে যান। যারা নৌ-পথে মালামাল আনেন তারা বিআইডাব্লিউটিএর লোকদেরকে মালামাল উঠানোর জন্য টাকা দেন। কিন্তু নদীর পাড় দখল করে মালামাল মজুত রাখার জন্য কোনো টাকা দেওয়া হয় না।
চাঁদপুর নদীবন্দরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে এলাকাবাসী ওই মালামাল স্তূপ করে রাখার কারণে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দাবি তুলেন। এরপর এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে। ওই আলোকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআইডাব্লিউটিএ ডাকাতিয়া নদীর পাড়সহ অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। এর পর আবারও ওই ব্যবসায়ীরা পুনরায় ব্যবসা চালু করেন।
চাঁদপুর নদীবন্দর এর উপ-পরিচালক এবং বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘আমি চাঁদপুরে আসার পূর্বে দখলমুক্ত হয়। কিন্তু এখন আবার দখল হলে আমরা কি করবো। এটা প্রশাসন দেখবে।’
ইত্তেফাক/নূহু