চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হার ৬ দশমিক ৯ ভাগ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হবে। সরকার রাজস্ব আদায়ে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সেটি আদায়ও চ্যালেঞ্জ হবে। গতকাল প্রকাশিত হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারের সাময়িক হিসাবে গেলো ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ ভাগ অর্জিত হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ ভাগ।
এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যার ফলে দেশের ধান উত্পাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রবৃদ্ধিতে যে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে সেটি অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদকে আরো দক্ষ ভাবে ব্যবহার করে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগ স্বাভাবিক গতিতে এগুবে বলে আশা করছে এডিবি। সেইসাথে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এবং অবকাঠামোর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হওয়ায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এর ফলে রপ্তানিখাতে কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ভোক্তা পর্যায়ে আস্থা বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যের গতি বাড়বে। প্রতিবেদনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুফল তুলে ধরা হয়েছে। যেমন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক পথ উন্নয়নে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হচ্ছে, এর ফলে ভুটান ও ভারতের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। তাছাড়া বিদ্যুত্ পরিস্থিতির উন্নয়নে সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ব্যবসা পরিবেশ উন্নতি করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদনে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের মালিকানাধীন ৪৮টি অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মুনাফা হয়েছে ১৮০ কোটি ডলার। অন্যদিকে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত লসের পরিমাণ ৯৮ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বলানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসির মুনাফাও কমেছে।
প্রতিবেদনে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছর শেষে ২ দশমিক ৬ ভাগ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এবার হাওরের ফসলহানীর ফলে কৃষি খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হবে না। এডিবি উল্লেখ করেছে, এবার শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১০ দশমিক ২ ভাগ। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে আসার আশঙ্কা করা হয়েছে। এবার সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কারণ কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি সেবাখাতকেও প্রভাবিত করে।
চলতি অর্থবছর মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের নিচে থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে এটি ৬ দশমিক ৩ ভাগ হওয়ার পূর্বাভাস ছিলো। এবারের দীর্ঘমেয়াদী বন্যার ফলে দেশে চালের দাম বাড়বে। ফলে দেশে চালের আমদানি বাড়বে। গেলো মার্চে দেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি আরো বৃদ্ধি করা হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আশংকা এবং টাকার মান কিছুটা কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের নীতি সহায়তা ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রতি জোর দিতে হবে। বাজেটে সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সেটি উচ্চাভিলাষি। এটি আদায় করা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে এডিবি।
ইত্তেফাক/কেকে