‘রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাক’

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আজ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচটি ও অস্থায়ী দশটি সদস্য দেশ ছাড়াও বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বক্তব্য দেবেন। বাংলাদেশ আশা করে নিরাপত্তা পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গুরুত্ব আর ভয়াবহতা বিবেচনা করে রোহিঙ্গা সংকটের একটি ইতিবাচক পথ নির্দেশ দিবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে জাতিগত নিধন অভিযানের কারণে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা হবে।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠককে সামনে রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী গতকাল বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য নয়টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন। বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশন রয়েছে অপর চারটি দেশ হলো জাপান, ইতালি, সুইডেন ও মিশর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়জন কূটনীতিকের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান জোড়ালোভাবে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের জানান, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরবেন। আমরা চাই নিরাপত্তা পরিষদ এমন একটি ব্যবস্থা নেবে, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। নয়টি দেশই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। বাংলাদেশ এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলের দপ্তরের মন্ত্রী অক্টোবরের শুরুতে ঢাকা আসবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যে পাঁচ দফা বক্তব্য দেন তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদে অবস্থান তুলে ধরবে।

জাপান বাংলাদেশের

পাশে থাকবে

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ইআও হুরি সংক্ষিপ্ত সফরে বুধবার ঢাকা আসেন। গতকাল সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা অবস্থান তুলে ধরেছি। জাপানের অনুরোধে বাংলাদেশ ২০১৪ সালে জতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। সেজন্য জাপান কৃতজ্ঞ। এখন আমরা চাই আমাদের রোহিঙ্গা সংকটের সময় জাপান সহায়তা ও সমর্থন দিবে। জাপান কফি আনান কমিশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। জাপানের উপমন্ত্রী জানান, আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি। সমস্যা সমাধানে সহায়তা দিব।

ইত্তেফাক/নূহু