গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের মজিদের ভিটা গ্রামের শত শত মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছেন। লোকজন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত টিউবওয়েলের মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করার কারণে ওই সব লোকজন শরীরে চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আর্সেনিকযুক্ত পানির টিউবওয়েলগুলো চিহ্নিত করলেও নেয়া হয়নি বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা। ফলে এলাকার জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পদুমশহর ইউনিয়নের মজিদের ভিটা গ্রামের মানুষ বেশি আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ডাকবাংলা ও মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে অনেক বাড়ির টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। এসব টিউবওয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করার ফলে, মানুষের হাতে-পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নানা চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত পানি-পানের কারণে লোকজন চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিশ্চিত হলেও এসব এলাকার মানুষের নিরাপদ পানি-পানের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এলাকার দরিদ্র লোকজন নিরুপায় হয়ে নিয়মিত আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আল মামুন, তোতা মিয়ার স্ত্রী লাকী বেগম, বাহার আলীর ছেলে আজাহার আলী, আনার আলীর ছেলে মীর হোসেন, আলতাবের স্ত্রী লিলি, রজব আলীর স্ত্রী ময়না বেগমসহ অনেক নারী পুরুষ চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শরীরে চর্মরোগের চিকিত্সার জন্য স্থানীয় চিকিত্সকদের কাছে রোগীরা গেলে, চিকিত্সক পানিবাহিত কারণে চর্মরোগ হতে পারে এমন সন্দেহ করে বিষয়টি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অবহিত করতে বলেন। চিকিত্সকের পরামর্শে তারা (রোগীরা) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তারা (জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর)টিউবওয়েল গুলোর পানি পরীক্ষা করলে আর্সেনিক ধরা পড়ে । এখন পর্যন্ত ওইসব রোগীদের সরকারী-বেসরকারি ভাবে চিকিত্সার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভুগি লোকজন আভযোগ করেন। এব্যাপারে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদুলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানি-পানের কারণে মানুষের শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে পর্যায়ক্রমে তা জন্ডিস,চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানি বর্জন করে দীর্ঘ দিন যাবত এসব রোগের চিকিত্সা করতে হবে।
পদুমশহর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামান স্বপন জানান, মজিদের ভিটা গ্রামে নলকূপের পানি পরীক্ষার কথা শুনেছিলাম। তবে এসব নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। যেসব মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানির নলকূপ চিহ্নিত করা হয়েছিল সেগুলোর চিহ্ন আর নেই। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করছেন গ্রামবাসী। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন জানান, কয়েক বছর আগেই সাঘাটা উপজেলায় মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের অস্তিত্ব মিলেছে বলে শুনেছি । তবে এ উপজেলায় নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে এব্যাপারে তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া লোকবল সংকটের কারণে নলকূপের পানি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/এএম।