চালের ডিলার শুধু হাটহাজারী পৌরসভায় দেওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র জনসাধারণ বিপাকে পড়েছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুধু পৌরসভা এলাকার বাসস্টেশন (মেখল রোড), হাটহাজারী বাজার (মুসলিম হোটেল সংলগ্ন) ও কলেজ গেইট (বউ বাজার) এলাকায় ওএমএস’র চাল বিক্রি করছে ৩ জন ডিলার।
জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন এই চাল বিক্রয় চলছে। তিনজন ডিলার ৩ মেট্টিক টন চাল বিক্রি করছেন। পৌর এলাকার জন্য ওএমএস’র বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প। এতে কোনরকমে পৌর এলাকার জনসাধারণের চাহিদা মেটাতে পারলেও চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ।
সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী ওএমএস’র সুবিধাবঞ্চিত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষরা মনে করে প্রতিটি ইউনিয়নে ওএমএসের চাল বিক্রয়ের কেন্দ্র খোলা হলে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতো। কিন্তু চাল কিনতে আসা নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের মো. আবুল হাশেম (৪৮) জানান, এই চাল নিতে আসতে আমার অনেক টাকা গাড়ি ভাড়া খরচ হয়েছে। কিন্তু কী করবো বাধ্য হয়েই কষ্ট করে এলাম। এই চাল যদি আমাদের এলাকায় বিক্রয় হতো তাহলে অনেক গরীব-অসহায় মানুষ ভালোভাবে খেয়ে বাচঁতে পারতো। তিনি আরো জানান, তাকে প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে পৌরসভায় ওএমএসের চাল নিতে আসতে হয়েছে। এখানে এসে এই চাল ক্রয় করা তাদের জন্য অনেক কষ্ট কর।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা চাইথোয়াই প্রু মার্মা এ বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী আমি পৌরসভায় ১ম পর্যায়ে ৩টি ডিলার নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিটি ডিলার ১ মেট্রিক টন করে ৩ মেট্রিক টন চাল বাজারে বিক্রি করছে। ২য় পর্যায়ে ১ম ৩টি ডিলারকে বাদ দিয়ে নতুন করে আন্য ৩টি ডিলার নিয়োগ দিব। এভাবে ২২ দিনে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬৬ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করবে ওএমএস’র ডিলাররা।
তবে শুধু হাটহাজারী পৌরসভায় চালের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র জনসাধারণ ওএমএস’র সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অব্যশই তারা বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলার ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকেদের পক্ষে পৌরসভায় এসে ওএমএস’র চাল ক্রয় করা সম্ভব নয়।
ইত্তেফাক/নূহু