মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঝামা বাজারে মধুমতি নদীতে রবিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হলো শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা। প্রতি বছর দুর্গা পূজার বিসর্জনের পরদিন এখানে বসে নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা। কাশার ঘণ্টা আর বাইচের নৌকার বৈঠার শব্দের সাথে সাথে নেচে উঠে এ এলাকার নারী পুরুষ, ছেলে বুড়ো কিংবা ছোট্ট শিশুর দল। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী।
এ উপলক্ষে নদীর পাড়ে ঝামা বাজারে বসে গ্রামীণ মেলা। মাটির খেলনা, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিষ, কাঠের তৈরি নানা সরঞ্জামের পাশাপাশি মাছ, মাংস, সবজীর পসরা নিয়ে বসে দোকানিরা। বিভিন্ন বয়সী মানুষ কেনেন সেসব সামগ্রী। ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ মেলা পায় সার্বজনীন অবয়ব। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুর্গা পূজা উপলক্ষে এ বাইচের আয়োজন হলেও আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকেই স্থানীয় হিন্দু মুসলমান সবাই মিলেই মেলাটি সফল করে থাকেন। এ মেলাটি আমাদের এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। নৌকা বাইচ ও মেলা দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি ভারত থেকেও বহু মানুষ এলাকায় আসেন।IMG0
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শ্রী বীরেন শিকদার জানান- শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এলাকার সম্প্রীতির মেলবন্ধন আরো বেগবান করবে। সরকার দেশী ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করছে। বাঙ্গালীর ঐতিহ্য বাহী এসকল উৎসব বেশী বেশী আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে।
নৌকা বাইচে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার উপজেলার নজরুল মেম্বর প্রথম, মাগুরার মহম্মদপুরের পারলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন দ্বিতীয় ও আলফাডাঙ্গার মানিক মোল্যার নৌকা তৃতীয় স্থান অধিকার করে। সন্ধ্যায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ