পুলিশ হত্যা মামলায় আরো দুই আসামীর আদালতে দোষ স্বীকার

আড়াইহাজার উপজেলায় ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত শাহীন ও সিরাজ মিয়া নামে আরো দুই আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আফতাব উজ্জামান ওই দুই আসামীর জবানবন্দি গ্রহন করেছেন। এনিয়ে ৪জন দোষস্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামিরা প্রত্যেকে জবানবন্দিতে বলেছে, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন প্রথমে রুবেলের মাথায় গুলি করেছে। পরে তার হুকুমে তারা কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলাম পিপিএম জানান, কালাপাহাড়িয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া পাবেল ও ইয়াসিনকে পটুয়াখালীর আমখলা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে তারা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর শাহীন ও সিরাজ জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি জানান, এ মামলায় ৩২জন আসামির মধ্যে ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে চেয়ারম্যান স্বপনসহ ২৭ জন। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কালাপাহাড়িয়া গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য রূপ মিয়া মেম্বারের ছেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন দলবল নিয়ে রূপ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় রূপ মিয়ার ছেলে রুবেলকে কাছে পেয়ে তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তাদের বাড়ি ঘরে লুটপাট চালায় স্বপনের লোকজন।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যান স্বপনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের বিরুদ্ধে নিহত রুবেলের ভাই কামাল হোসেন আড়াইহাজার থানায় ৩২ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ইত্তেফাক/নূহু