গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ভুয়া পুজামণ্ডপ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নে বি. এম হারুন অর রশিদ পিনু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২০১৬ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বছর দুর্গাপূজায় তিনি তার ইউনিয়নের দুটি মণ্ডপের নাম ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেছেন। মণ্ডপ দু’টির কমিটির সভাপতি এ অভিযোগ করেছেন। এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বররা জড়িত রয়েছে বলেও তারা জানান।
তারা আরো জানান, রাতইল ইউনিয়নের তারাইল মাঝিবাড়ী দুর্গা মন্দির ও পরানপুর ঋষিবাড়ী দুর্গা মন্দিরে এ বছর দুর্গোত্সবের আয়োজন করা হয়নি। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান বি.এম হারুন অর রশিদ পিনু মন্দির দুটির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি বরাদ্দের ১ মেঃ টন চাল আত্মসাত্ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের যোগসাজসে ওই চাল উত্তোলন করে স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা পকেটে পুড়েছেন।
কাশিয়ানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলতি বছর শারদীয় দুর্গোত্সব উপলক্ষে কাশিয়ানী উপজেলার ২৩৮টি মন্দিরে ১১৯ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়।
রাতইল ইউপির পরানপুর ঋষিপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি অশোক বিশ্বাস বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানকে বললাম এবার আমাদের বাড়িতে পুজা হচ্ছে না। তাই চাল উত্তোলন করবো না। কিন্তু চেয়ারম্যান জোর করে আমাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে নিয়ে গিয়ে ডিও লেটারে সই নেন। পরে চেয়ারম্যান চাল উত্তোলনের পরে বিক্রি করে টাকা আত্মসাত্ করেছেন।’
তারাইল ইউপির মাঝিবাড়ী দুর্গা মন্দিরের সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না। মন্দিরে দুর্গা পূজার আয়োজন করিনি। আমাদের ওয়ার্ডের রেজাউল মেম্বার মন্দির সংস্কারের জন্য অনুদান এনে দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ছবি ও ভোটার আইডি কার্ড নেয়। পরে আমাকে কাশিয়ানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে নিয়ে গিয়ে কাগজে সই দিতে বললে আমি সই দেই। পরে জানতে পারি তারা মন্দিরের নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেছে।’
এ ব্যাপারে রাতইল ইউপি চেয়ারম্যান বিএম হারুন অর রশিদ পিনুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মন্দির কমিটির সভাপতি-সম্পাদক সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন করেছে। আমি শুধু তাদের ছবি ও আইডি কার্ড সত্যায়িত করে দিয়েছি। ভূয়া মন্দিরের নামে আমি কোন বরাদ্দ করিনি। আমার প্রতিপক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মাঈনউদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
ইত্তেফাক/এএম।