সালাউদ্দিন-২ লঞ্চডুবি গণকবর শুধুই স্মৃতি

‘নদীর কূলে এসে ভিড়ে লঞ্চ। কিন্তু সেই লঞ্চে যাত্রীর পরিবর্তে ছিল লাশ বোঝাই। যেদিকে চোখ যায়—শুধু লাশের সারি। কেউ জড়িয়ে রেখেছে আদরের সন্তানকে, কেউ আবার প্রিয়জনকে। সেদিন স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। পুরো এলাকায় জুড়ে ছিল কান্নার রোল। এ দৃশ্য দুঃস্বপ্নের মত দুই চোখে আজো ভেসে ওঠে।’

জানা গেছে, ২০০২ সালের ৩ মে ঢাকার সদরঘাট থেকে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী এমভি সালাউদ্দিন-২ নামের লঞ্চ মেঘনা নদীর ষাটনলে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনার তিনদিন পর লঞ্চসহ তিন শতাধিক যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে কিছু লাশ পরিবারের লোকজন শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। বাকি ১২৪টি লাশ এমভি রহমান নামের একটি লঞ্চে করে রাঙ্গাবালীর খালগোড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। লাশগুলো পচে ফুলে যাওয়ায় পরিবার সদস্যরা শনাক্ত করতে পারেনি। তাই বেওয়ারিশ হিসেবে সেখানে গণকবর খুঁড়ে লাশ দাফন করা হয়।

তত্কালীন রাঙ্গাবালী থানা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি আমির হোসেন মল্লিক বলেন, ‘সালাউদ্দিন-২ লঞ্চডুবিতে নিহতদের লাশ লঞ্চে করে আনার খবর শুনে ছুটে যাই। লাশগুলো পচে ফুলে যাওয়ায় দুর্গন্ধে কাছাকাছি যাওয়া যাচ্ছিল না। তবুও লঞ্চ থেকে লাশগুলো নামাতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করি। তখন বেশ কিছু তরুণ এবং যুবক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে লাশগুলো গণকবর দেয়।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগোড়া গণকবর এখন অস্তিত্বহীন। ইতোমধ্যে দুই-তিনটি কবর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাকিগুলোও রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়। সেখানে এখন অস্তিত্ব হিসেবে রয়েছে ‘রাঙ্গাবালী গণকবর হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং শিশু এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’। ২০১১ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এখন সেখানে তেমন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গণকবর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় রয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। জেলা পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ওই গণকবর রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এটিকে উপজেলা গণকবরস্থানে উন্নীত করা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু