সরকারি আশ্রয়ণে বসবাসরত দরিদ্র দিনমজুর এক বিধবা নারীর ছেলে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এই খুশির খবরের মাঝেও অর্থাভাবে তার পড়ালেখা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার এক নম্বর ডাবোর ইউনিয়নে অবস্থিত সরকারি ডহচী মধুহারী আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাস করছেন বিধবা মোছা. মসলিমা বেগম ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী (১৮)। মোহাম্মদ আলী স্থানীয় জয়নন্দ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ৪.৯৪ পেয়ে এসএসসি এবং জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে ৪.৮৩ জিপিএ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'খ' ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
মোহাম্মদ আলী উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তার মা মসলিমা বেগম ভর্তির সংবাদ পেয়ে খুশিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং এলাকাবাসীর মধ্যেও খুশির বন্যা বইতে দেখা গেছে। কিন্তু দিনমজুর মায়ের পক্ষে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান মসলিমা বেগম।
'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়ার পরও পড়ালেখা অনিশ্চয়তায়' এই সংক্রান্ত খবর দৈনিক পত্রিকাসমূহে প্রকাশিত হলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি তাৎক্ষণিক কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দিক নির্দেশনা প্রদান করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ৩ অক্টোবর সাহায্য হিসেবে ৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
এদিকে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদ-এর সঙ্গে এব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, মোহাম্মদ আলীকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বছর ব্যাপী প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে লেখাপড়ার খরচ বাবদ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি এলাকার বৃত্তবান ব্যক্তিদের তার প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ আলী জানায়, লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজ সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইত্তেফাক/জামান