মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনায় নিষিদ্ধ সময়ে মা’ ইলিশ নিধন রোধে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মৎস্য বিভাগের প্রয়োজনীয় দ্রুতগামী নৌকা বা স্পিডবোটসহ অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহে দেরি হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে।
এ সুযোগে অবৈধ ইলিশ শিকারীদের ঔদ্ধত্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার চলতি ১-২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বিক্রয়, মজুদ, পরিবহন ইত্যাদি বন্ধ ঘোষণা করলেও স্থানীয় জেলে ও সৌখিন শিকারীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে ইলিশ নিধন চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইলিশ রক্ষায় গত বছর শিবালয় ইউএনও কামাল মোম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে ২১টি মোবাইল কোর্ট ও ৬৩টি অভিযান পরিচালিত হয়। এতে আটক ২৮৩ জনের মধ্যে ৫৪ জনের জেল ও বাকিদের অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানকালে ২৮৯টি মামলা দায়ের ও ১২ লাখ ৮০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
এদিকে, চলতি অভিযানের চতুর্থদিন বুধবার জেলার শিবালয় ও দৌলতপুরে ২৩ জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
জানা গেছে, পদ্মা-যমুনা বেষ্ঠিত মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া, মধ্যনগর, ত্রিশুরী, কানাইদিয়া, দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, জিয়নপুর চরকাটারী এলাকায় ইলিশের অবাধ বিচরণ রয়েছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া, দাশকান্দী, অন্বয়পুর, হেমগঞ্জ, দক্ষিন শিবালয়, আরিচা, নিহালপুর, তেওতা, মালুচি, জাফরগঞ্জসহ পদ্মা-যমুনার বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা ভেদে মওসুমী মা ইলিশের প্রাচুর্য দেখা যায়। এ সুযোগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্বেও চোরা শিকারীরা দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকারে মেতে উঠে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় মৎস্য আড়ৎ ব্যবসার সাথে যুক্ত কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে ইলিশ শিকারীদের মদদ জোগাচ্ছে। এরা নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরে সকাল-সন্ধায় নদীর তীরে আকৃতি ভেদে ৩/৪শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার রফিকুল আলম জানান, পদ্মা-যমুনা বক্ষে বিশাল এলাকা জুড়ে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দ্রুতগামী নৌ-যান বা স্পিডবোট জোগাড়ে বিলম্ব হওয়ায় চোরা ইলিশ শিকারীদের দমনে বিঘ্ন ঘটছে। অভিযানের চতুর্থ দিন বুধবার নদীতে অভিযানেকালে ১৮ জন জেলেকে আটক ও ৬০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৪ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছর করে জেল ও বিশেষ বিবেচনায় ৪ জনকে তিন হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আটককৃতরা হচ্ছে, উপজেলার অন্বয়পুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মিন্টু (৩৫), কমর মন্ডলের ছেলে আসলাম মন্ডল (৩৫), ছাত্তারের ছেলে ইয়াকুব (২২), আকবর মোল্লার ছেলে আলামীন (২৪), জয়দার ফকিরের দু’ছেলে আজাদ (১৯) ও সুজাত (১৭), হাবু ফকিরের ছেলে নজরুল (১৯), আড়পাড়া গ্রামের হালিমের ছেলে মিলন (১৯), গান্ধাইল গ্রামের মহীরউদ্দীনের ছেলে জসিম (১৬), আলোকদিয়া চরের পিতা-পুত্র শমসের আলী (৪০) ছেলে মোস্তফা (১৭), একই চরের কালাম শেখের ছেলে জব্বার (১৮), রফিজ উদ্দিনের ছেলে আনিস (২০), চর শিবালয়ের ঠান্ডু মিয়ার ছেলে শাহাদত (২৪), পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ঠাকুরের তিন ছেলে সাঈদুর (২১) ইকবাল (১৮) ও মুলুকচাঁন (১৭) একই গ্রামের কোজালীর ছেলে শামীশ (২৪)।
ইত্তেফাক/নূহু