গত কয়েক বছর আগেও বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত ছিল নোয়াখালী। সেই নোয়াখালী এখন আওয়ামী লীগের দখলে। এক সময় বিএনপি কর্মীদের শ্লোগান ছিল ‘নোয়াখালীর মাটি, বিএনপির ঘাঁটি।’ এখন আওয়ামী লীগ কর্মীদের শ্লোগান হচ্ছে ‘নোয়াখালীর মাটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি।’ নোয়াখালীর সন্তান ওবায়দুল কাদের বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর সাংগঠনিক তত্পরতায় উজ্জীবিত নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রচণ্ড প্রতাপে এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগাম নির্বাচনী প্রচারণায় মুখরিত করে রেখেছেন জেলার ছয়টি সংসদীয় এলাকা। সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) ও নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) ছাড়া বাকি চারটি আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। রয়েছে দলীয় কোন্দলও। এ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে তত্পর রয়েছেন। এলাকায় তারা নানাভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মতবিনিময়, উঠোন বৈঠক, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও ঈদ-পূজা-পার্বণে উপস্থিত হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে অনেকেই নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। এ ছাড়া প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত পোস্টার-ব্যানার-তোরণে ছেয়ে গেছে সবগুলো সংসদীয় এলাকা। অন্যদিকে বিএনপিও নির্বাচনকে ঘিরে আগাম প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। তবে বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তাদের দলের নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত থাকায় প্রচার-প্রচারণা চলছে ধীরগতিতে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মোঃ শাহজাহান, বরকত উল্লা বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ পাঁচজন তাদের সবাই অনেক মামলার আসামি। আদালতে হাজিরা দিতে দিতে সময় শেষ। অনেকেই আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হন এবং জামিন বাতিল হয়ে আবার কারাগারে যান। এ অবস্থায়ও জামিন পেলেই কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় এসে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। তবে তাদের প্রচার-প্রচারণা ঘরোয়া ও দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে জেলার কিছু এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। এসব কোন্দল মেটাতে নেতারা মতবিনিময় সভা করে দলকে সুসংগঠিত করে চলেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা যখন এলাকায় আসতে না পারেন, তখন দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত। তবে আওয়ামী লীগ চাইবে তাদের দখলে থাকা আসনগুলো ধরে রাখতে এবং বিএনপি চাইবে তাদের হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে। অপরদিকে জেলায় বিএনপির শরিক দল জামায়াতের নির্বাচনী কোনো তত্পরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
ইত্তেফাক/নূহু