সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
এএফপি ও রয়টার্স
লিবিয়ায় রাজধানী ত্রিপোলিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, ত্রিপোলির কাছে খলিফা হাফতারের সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহমিদ ওমর লিবিয়ার আল আহরার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মৃতের এ সংখ্যার কথা উল্লেখ করেন। হাফতারের বাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের ১৪ যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ২০১১ সালে উত্খাতের সময় থেকে দেশটি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। আর এরপর থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ত্রিপোলিভিত্তিক বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এবং হাফতারের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। রাজধানী দখলে হাফতার সামরিক অভিযান শুরুর তিনদিন পর রবিবার ত্রিপোলির দক্ষিণে প্রচণ্ড লড়াই হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি সরকারি ইউনিট এবং মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ত্রিপোলি নিয়ে চলামন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং খলিফা হাফতারের সামরিক অভিযান ‘দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করতে চাই যে, আমরা খলিফা হাফতারের বাহিনীর চালানো সামরিক অভিযানের বিরোধী এবং আমরা লিবিয়ার রাজধানীর কাছে এই সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।’
পম্পেও জোর দিয়ে বলেন, সামরিকভাবে লিবিয়া সংঘাত সমাধান সম্ভব না। তিনি এ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে জরুরি ভিত্তিতে বেরিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘ত্রিপোলিতে এই একতরফা সামরিক অভিযান বেসামরিক নাগরিকদের চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং লিবিয়ার জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে নস্যাত্ করছে।’ পম্পেও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ঘাসান সালামের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক আলোচনা ফের শুরু করতে লিবিয়ার নেতাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ‘একটি রাজনৈতিক সমাধান হচ্ছে দেশটিকে একত্রিত করার একমাত্র উপায়। আর এই সমাধান লিবিয়ার সব মানুষের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে।