ব্রুনাই :আতঙ্কে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষ

বিবিসি 

ব্রুনাইয়ে সমকামিতাসহ কয়েকটি অপরাধে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো কঠোর ইসলামিক আইন চালুর ঘোষণা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে। আতঙ্কে এরই মধ্যে ব্রুনাই ছেড়েছেন ‘এলজিবিটি’ সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি। দেশটিতে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেছেন তারা। তারা বলেছেন, কিভাবে সেদেশে শিশুদেরকে ছোট পাথর ছুড়ে এ নির্মম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শেখানো হয়।

ব্রুনাইয়ের সুলতান গত বুধবার সমকামিতা, বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এবং ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য পাথর ছুড়ে হত্যা এবং একইসঙ্গে চুরির জন্য অঙ্গচ্ছেদের মতো বর্বর শাস্তি চালুর ঘোষণা দেন। ওইদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ‘জোরালো’ ইসলামিক শিক্ষা প্রণয়নের কথা বলেন। ‘মধ্যযুগীয় এই দণ্ডের’ বিধানে ব্রুনাইয়ের সমকামী সম্প্রদায় শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, তাদেরকে হয়ত দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। এরই মধ্যে ব্রুনাই ত্যাগ করা দুই নাগরিকের একজন সমকামী এবং একজন হিজড়া। তারা বিবিসি’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। এদেরই একজন শাহিরান বলেন, “ছোটবেলায় আমাদের শেখানো হতো হাতের পাথরটি যেন খুব বড় না হয়। কারণ, বড় পাথর ছুড়লে মানুষটি খুব দ্রুত মারা যাবে।”  বিষয়টি চিন্তা করলেই আপনার আতঙ্ক লাগবে। “এ কারণে দেশে থাকা অবস্থায় আমি কখনোই আমার সমকামিতার কথা স্বীকার করিনি। দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার পরই কেবল আমি আমার আসল অবস্থা প্রকাশ করি।”

 জোয়েলা নামের অপরজন বলেন, তিনি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং ব্রুনাইতে তিনি কখনো লিঙ্গান্তরে অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না। এ কারণেই তিনি দেশ এবং ধর্ম দুটোই ছেড়েছেন।