সাদিয়া কারিমুন
আজ আমরা সত্যিই গর্বিত বাঙালি। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলমান। অর্থনীতির সূচকগুলোর অবস্থানও অনেকটাই চোখে পড়ার মতোই। বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারের নানান তত্পরতা এবং সেইসঙ্গে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা। অবশ্যই তা সরকারি বিভিন্ন আয়োজনকে ঘিরে। এর পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার অবস্থান এবং পরিস্থিতি সঠিকভাবে বিশ্লেষণের সময় এখনই। এখন প্রশ্ন এটা দাঁড়াচ্ছে যে, এত উন্নয়নের মাঝে সামাজিক নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে? অর্থাত্ আমরা সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনে কতটুকু নিরাপদ বোধ করছি! এটাও সরকারের প্রতি জনগণের বিশ্বাস জন্মানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।
বাংলাদেশ ২০১৯ সালে বিশ্বের ৪১ তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ২৪ তম স্থান দখল করে বিশ্বের শীর্ষ ২৫ টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় প্রবেশ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। উন্নয়নের একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাতে বলা আছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নকে অবশ্যই পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের আওতায় রাখতে হবে। যদি গেল মাসের সার্বিক পরিস্থিতি আমরা শুধু সড়ক দুর্ঘটনা ও অপ্রত্যাশিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোকে বিবেচনায় রেখে বিচার করতে যাই, তাহলেও দেশ আজ মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। ভুলগুলো কিন্তু আজকের করা নয়, হঠাত্ থেকে এসব দুর্যোগ শুরুও হয়নি। এখন যা হচ্ছে সেগুলো পূর্বকৃত অসচেতনতা ও ভুলের মাশুল। ‘উদাসীনতা’ আর ‘অনিয়ম’, শব্দ দুটি আমাদের দেশের বাঙালির তথা অধিকাংশ মানুষের মধ্যে জেঁকে বসেছে। সরকার, গণমাধ্যম আর জনগণ যেটুকু করছে তার অনেকটাই এর ভয়ঙ্কর থাবায় আসল উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সারাদেশে কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে বিশ্লেষণ হয়। যেমন- পূর্বে কি করা উচিত ছিল, কর্তৃপক্ষের দ্বারা কি করা হয়েছে এবং প্রেক্ষাপটকে ঘিরে কি করা উচিত? এই বিশ্লেষণ কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে তা প্রমাণসাপেক্ষ। তাই উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক। সঠিক চিত্র তুলে ধরার জন্য জনগণের মধ্যে একটি গবেষণা চালানো যেতে পারে যে, তারা মানসিকভাবে কতটুকু নিরাপদ বোধ করেন? তবে তাদের উত্তরটি যে সরাসরি হ্যাঁ হবে না তা বোঝাই যাচ্ছে। যথাযথ নিরাপত্তাবোধ দ্বিধাহীন সন্তুষ্ট আনে আর যা একই সঙ্গে দেশের উত্পাদনশীলতা এবং সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করে। জনৈক তত্ত্ববিদের ‘প্রয়োজন বা চাহিদার পদসোপান’ এর একটি গুরুত্ববহ ধাপ হচ্ছে ‘নিরাপত্তা’। তত্ত্বটি পুরনো হলেও এটি বর্তমানে উপলব্ধি বটে! আজ বাংলাদেশ যতটা সমৃদ্ধ তা রক্ষা করাটা অনেকটাই নির্ভর করছে জনগণের নিরাপদ বোধ করার ওপর। অন্যথায় উন্নয়ন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না বলেই বিজ্ঞজনেরা মনে করেন। যে ভুলগুলোর কারণে আজ কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, অবৈধ দখলদারিত্ব সরানোতে ঘর-বাড়িচ্যুত হতে হচ্ছে, সে ভুলগুলোর যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে যথাযথ নজরদারি এখন সময়ের দাবি। সচেতন জাতি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার এখনই সময়। সরকারি কর্তৃপক্ষের সবাই যদি তাদের বিবেচনায় স্বচ্ছ হন তাতে অনেক কাজই কঠিন হয়ে উঠবে। তবে তাতে উদ্যমী হওয়াটা বন্ধ করা যাবে না। ভালো থাকতে চাই আমরা সবাই আর দিনশেষে এটাই সর্বোচ্চ সত্য। তাই আমাদের চিন্তা, পরিকল্পনা এবং করণীয় সেই অনুযায়ী হোক। সংবিধানে বলা আছে, “জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স” আর কথাটির তাত্পর্য অনেক। আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন আর সচেষ্ট হলে তা প্রকৃত উন্নয়নকে ধারাবাহিক করতে আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।
n লেখক : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।