গৌরীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেয়ার প্রতিবাদ করায় গিধাউষা গ্রামের এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার এ হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ শনিবার থানায় জিডি করেছেন। গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহাম্মদ জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের ভাঙ্গরহাটি, গিধাউষা ও কাশিচরণ তিনটি গ্রামের তিন শতাধিক গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র। অবৈধ এসব টাকার ভাগ যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পকেটে। প্রতি সংযোগের জন্য ৭ হাজার টাকা ধার্য করে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হলেও এখনো কোনো গ্রাহক বিদ্যুৎ পায়নি।
জানা গেছে, সহনাটি ইউনিয়নের তিন গ্রামে প্রায় পৌনে ছয় কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করা হবে। নতুন লাইনের আওতায় প্রায় তিন শতাধিক পরিবার বিদুত্যের সুবিধা পাবে। প্রতিটি সংযোগ ফি ৭৫০ টাকা। কিন্তু দালাল চক্রের সদস্য মৃত শহর আলীর ছেলে লিটন, লাল মিয়ার ছেলে মেহেদি হাসান, তালেব হোসেনের ছেলে দুদুমিয়া, আবুল হোসেনের ছেলে সেকান্দর ও গফুর মেম্বারের নেতৃত্বে বিভিন্ন গ্রুপ তিন গ্রামের তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে।
শুক্রবার দুপুরে ঐ তিন গ্রামে সরেজমিনে খোঁজ নিলে গ্রামবাসী বিদ্যুতের অনিয়ম ও দালালদের নাম প্রকাশ করলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ সময় গিধাউষা গ্রামের এক গৃহবধূকে আবুল হোসেন ও তার দুই ছেলে বাবু ও সেকান্দর মারধর করতে যান। পরে ওই গৃহবধূকে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করার হুমকি দেয় হয়।
ওই গৃহবধূ বলেন, বিদ্যুতের অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতারা রাতে আমার বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করার পরও দুই সন্তান নিয়ে আতঙ্কে আছি।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ শম্ভুগঞ্জ কার্যালয়ের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার যুবরাজ চন্দ্র পাল বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের নামে এক শ্রেণির প্রতারক সহজ-সরল গ্রামবাসীকে ভুল বুঝিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে।
মিটারের কথা বলে কেউ ৭৫০ টাকার অতিরিক্ত চাইলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি