চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের জন্য নতুন স্ক্যানার কেনার তোড়জোড় থাকলেও দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে পড়ে থাকা নতুন একটি কন্টেইনার স্ক্যানার চালুর উদ্যোগ নেই। ইকুইপমেন্ট সমস্যার কারণে যেমন বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, একইসাথে কন্টেইনার স্ক্যানার মেশিন সমস্যার কারণে পণ্য ডেলিভারিও স্লথ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, একটি প্রকল্পের অধীনে প্রায় দুই বছর পূর্বে চীন সরকার অনুদান হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে একটি মোবাইল কন্টেইনার স্ক্যানার প্রদান করে। যেটি বন্দর জেটির ও শেডের পেছনে ২নং গেইট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সূত্র জানায়, স্ক্যানারটি কোথায় স্থাপন করা হবে এবং এর জন্য শেড নির্মাণ করা নিয়ে এনবিআর থেকে অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কারণ এটিকে প্রথমে কাস্টমসের সম্পত্তি হিসেবেঅন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এনবিআর এর অনুমতি পেতে অনেক সময় অতিবাহিত হয়। এছাড়া স্ক্যানার ক্রয় প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ৮ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ‘স্ক্যানার ইমেজ এনালাইসিস’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এ সকল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে স্ক্যানারের ওয়্যারেন্টি পিরিয়ডই অতিক্রান্ত হয়ে যায়।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে স্ক্যানারটি চালু করার জন্য বললে তারা জানায়, এর ওয়্যারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়ে গেছে। তাই এটি চালু করতে তাদের সাথে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এনবিআরে পাঠানো রিপোর্টেও স্ক্যানারটির অপারেশন শুরু করা যায়নি বলে জানানো হয়। কাস্টমসের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত এর অপারেশন ও মেইনটেনেন্সের জন্য নতুন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করার জন্য বলা হয়। তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ নিয়ে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে আরও কতদিন লাগে তা বলা মুশকিল বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি গেটে থাকা ৪টি স্ক্যানারের অপারেশন ও মেইনটেনেন্স এর জন্য নতুন চুক্তির কার্যক্রমও দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে চালু একটি মোবাইল স্ক্যানার ও তিনটি রিলোকেটেবল স্ক্যানারের অপারেশন ও মেইনটেনেন্স কার্যক্রম চালাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের এমজিএস নামক প্রতিষ্ঠান। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে এ সকল স্ক্যানার ক্রয় করার পর দীর্ঘ ৮ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে স্ক্যানার ক্রয় করার আর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। একইসাথে কাস্টমস একটি স্ক্যানার ডিভিশন করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও আজো তা আলোর মুখ দেখেনি। কাস্টমস কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্ক্যানিং কাজের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিতে পারেনি।
সম্প্রতি সরকারের আভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একজন সচিব চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানারের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ৭ থেকে ৯টি স্ক্যানারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। এছাড়া আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বন্দর ব্যবহারকারীগণ বন্দরের পণ্য দ্রুত খালাস করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গেটে স্ক্যানার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান এ প্রসঙ্গে জানান, তারা ৪টি স্ক্যানারের অপারেটর ও মেইনটেনেন্স এর জন্য নতুন করে টেন্ডার আহবানের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তাছাড়া চীন থেকে পাওয়া স্ক্যানারের ক্ষেত্রে অপারেটর নিয়োগে ৫ বছরের জন্য টেন্ডার আহবান করার প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। এই সময়কালে বন্দরের কন্টেইনার স্ক্যানিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু