দেশের প্রায় ৫০ হাজার মত্স্যজীবী নিদারুণ জীবিকা সংকটের মধ্যে পড়েছেন। সরকারি আইন অনুযায়ী এখন নদীতে মাছ ধরা (জাটকা) নিষিদ্ধ। এ সময় এ সব পরিবারকে সরকারি তরফে ভিজিএফের অধীনে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয় ভিজিএফ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় এবার তাদের সেই সহায়তা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা কাজ ও খাদ্য সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ইত্তেফাককে জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে খাদ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে ভিজিএফ কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থায় মত্স্যজীবী পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়ে মত্স্য শিকার করছে। মাঝে মধ্যে এ কারণে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, তিনি আজ এ বিষয়ে অর্থ ও খাদ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাবেন। যদি তারা অনুমতি দেন তবে বিশেষ ব্যবস্থায় এ সব মত্স্যজীবী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ইত্তেফাককে জানান, তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি।
আমাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর সদর, মতলব (উত্তর) এবং হাইমচর এ তিন উপজেলার ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মা ও মেঘনায় সব ধরনের মত্স্য শিকার ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকবে। এ পর্যন্ত মত্স্যজীবী পরিবারগুলোকে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় মত্স্য কর্মকর্তা পরিবার প্রতি মাসে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার প্রস্তাব পাঠালেও সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
ইতোমধ্যে মত্স্যজীবী পরিবারগুলোর অনেকেই পেশা ছেড়ে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছেন। অনেকে পুকুর-খালে মাছ ধরছেন। অনেকে আবার রাতের আঁধারে চুরি করে নদীতে ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকার করছেন। এ কারণে অনেককে জেল খাটতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সরকারি মজুদ পর্যাপ্ত না থাকায় এবার টেস্ট রিলিফ ও কাবিখা কর্মসূচির অধীনে খাদ্য শস্যের পরিবর্তে নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর গত ঈদুল ফিতরের আগেই ভিজিএফ কর্মসূচি বন্ধ করা হয়। তবে ঈদুল আজহার সময় দুস্থ এক কোটি পরিবারকে ১০ কেজি করে গম দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু