স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রু মোকাবিলা করতে মুক্তিযোদ্ধারা এলেঙ্গা থেকে ভূঞাপুর পর্যন্ত ১২টি ব্রিজ সম্পূর্ণ বা আংশিক ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে আদাবাড়ি ও পালিমার ব্রিজ দুটি পুনর্নির্মাণ করা হলেও ১০টি ব্রিজ আগের অবস্থায়ই রয়েছে। এতে দুর্ভোগের অন্ত নেই এখানে চলাচলকারীদের।
স্বাধীনতার ৪৬ বছরে ১২টি ব্রিজের মধ্যে দুটি বাদে বাকি ১০টি ব্রিজ জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। সেই আমলের সরু এ সেতুগুলোর অধিকাংশের ওপর আংশিক স্টিলের পাত বসিয়ে মেরামত করা হয়েছে। এতে প্রতিটি ব্রিজ উচ্চতা বেড়ে উটের পিঠের মতো শ্রীহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। এতে বিপরীত দিকে থেকে আসা যানবাহনগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে জানমালের।
যে কোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান। এতকিছুর পরও ব্রিজগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সড়ক ও জনপদ বিভাগ। যদিও আগে সেতুগুলোর জীর্ণ অবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে একাধিকবার সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে পরিবহণগুলো এলেঙ্গা থেকে ভূঞাপুর হয়ে সেতু পূর্ব সড়ক ব্যবহার করে। এতে এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ব্রিজে পরিবহণের চাপ বেড়ে যায়। ফলে অধিক পরিবহণ ব্রিজগুলো দিয়ে পারাপার হওয়ায় আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা ও দেশের অন্যতম গোবিন্দাসীর গরুর হাটের কারণেও ভূঞাপুর-এলেঙ্গা রাস্তাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদের প্রধান প্রকৌশলী নূরে আলম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোর জন্য প্রায় ১১০ কোটি টাকার প্রজেক্ট প্লানিং কমিশনে যাচ্ছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ চাওয়া হয়েছে। কাগজগুলো পাঠানো হচ্ছে। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) পাস হলে ব্রিজের কাজ শুরু করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু