বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সিট না পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ওই ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী-সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীদের ও ব্যান্ড দল 'জলের গানের' পারফর্ম করার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীরা অনুষ্ঠান শুরু করার পর মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় সিট নিয়ে আশরাফুল হক হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জেরে মিলনায়তনের সামনে ওই হলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আরও জানা যায়, পরে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের সিট নেই এমন অভিযোগে অনুষ্ঠানস্থল থেকে তারা চলে যান। ওই মুহূর্তে শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ওই ঘটনা ঘটার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত থাকলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এদিকে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু হলে দর্শনার্থীরা মিলনায়তন ছেড়ে চলে যান।
ঘণ্টাব্যাপী বন্ধ থাকার সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকে বারবার অনুষ্ঠান চালু করার জন্য অনুরোধ জানান। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলনায়তনে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীদের অনুষ্ঠান বাকি রেখেই জলের গান শুরু করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, মিলনায়তনে বহিরাগতদের দিয়ে ভর্তি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জায়গা পাচ্ছে না। অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই দায়ী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে কারো জন্য সিট বরাদ্দ থাকে না। আর মিলনায়তনে কোন বহিরাগত ছিল না।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে শনিবার সকাল ১০টায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে বেলুন ও সাদা পায়রা উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
ইত্তেফাক/জামান