খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকলের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে। রবিবার সকালে তারা কাজে যোগ দেয়ায় পর বন্ধ থাকা ক্রিসেন্ট জুটমিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিল ও স্টার জুটমিলে উৎপাদন শুরু হয়।
এদিকে, রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ক্রিসেন্ট জুট মিলে শ্রমিক সভা চলার সময় কাজে যোগদানের জন্য বলা হলে শ্রমিকদের একটি অংশ সিবিএ নেতাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মিলের সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, শ্রমিক নেতা আবু হানিফ, জাহাঙ্গীর, রাসেল ও মিলন মেম্বরসহ আটজন আহত হন।
এর আগে শনিবার রাতে খুলনা সার্কিট হাউজে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, বিজেএমসি ও পাটকলের কর্মকর্তা এবং সিবিএ নেতাদের এক বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত তিন পাটকলের শ্রমিকরা রবিবার ভোর থেকে কাজ শুরু করেছেন। যার ফলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত শনিবার বৈঠকে রবিবার ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া এক সপ্তাহের মজুরি, আগামী মঙ্গলবার এক সপ্তাহের মজুরি ও বৃহস্পতিবার আরো এক সপ্তাহের মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। স্টার জুট মিলের শ্রমিকদের আগামী বৃহস্পতিবার এক সপ্তাহের মজুরি প্রদান করা হবে। মিল কর্তৃপক্ষ যদি পারে তাহলে দু'সপ্তাহের মজুরি প্রদান করবে। এছাড়া আন্দোলনের কারণে কোনো শ্রমিককে চাকরীচ্যুত বা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি বেল্লাল মল্লিক জানান, বকেয়া মজুরি পাওয়ার আশ্বাসে রবিবার ভোর থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় গত বুধবার প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল ও বৃহস্পতিবার ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেন। এছাড়া পাঁচ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা গত শনিবার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। ক্রিসেন্ট জুট মিলে পাঁচ হাজার, প্লাটিনামে পাঁচ হাজার ও স্টার জুট মিলে সাড়ে চার হাজার শ্রমিক রয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান