উত্তর কোরিয়া আক্রমণ করার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার কথা না বললেও গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের বেশ কিছু পদক্ষেপ এবং কথাবার্তায় যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
শনিবার টুইটারে উত্তর কোরিয়ার জন্য একটাই ওষুধ কাজ করবে অনেকটা এমনই লিখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউজে আমেরিকার শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলেছেন ট্রাম্প। সেই ছবি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে ট্রাম্পের মন্তব্যে, এই ছবির অর্থ কী, নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। তবে কি যুদ্ধ ঘোষণার পথেই ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জবাব, খুব শিগগির সবটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
শনিবার বিকেলে দু’টি টুইট করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্টরা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ২৫ বছর ধরে আলোচনা চালাচ্ছেন, অনেক চুক্তি করা হয়েছে, বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে,কিন্তু কাজ হয়নি, চুক্তিপত্রে দস্তখতের কালি শুকানোর আগেই চুক্তি ভাঙা হয়েছে, আমেরিকাকে বোকা বানানো হয়েছে। আমি দুঃখিত, কিন্তু একটাই মাত্র জিনিসে কাজ হবে।’
...hasn't worked, agreements violated before the ink was dry, makings fools of U.S. negotiators. Sorry, but only one thing will work!
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) October 7, 2017
আলোচনা বা চুক্তিতে কাজ হবে না, উত্তর কোরিয়ার জন্য কাজ করবে একটাই মাত্র ওষুধ এই বার্তার অর্থ কী? তোলপাড় শুরু হয়েছে আমেরিকায়। চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক মহলেও। তা হলে কি যুদ্ধের পথেই হাঁটতে চলেছেন ট্রাম্প? বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে দেশের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠক করেন। তার পরে সামরিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ছবিও তোলেন। সেই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। ট্রাম্প মার্কিন মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন এই ছবির অর্থ কী।’
ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘হতে পারে এটা ঝড়ের আগের শান্তি ।’
Presidents and their administrations have been talking to North Korea for 25 years, agreements made and massive amounts of money paid......
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) October 7, 2017
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এর পর মার্কিন মিডিয়ার পক্ষ থেকে বার বারই জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছেন। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জবাব দেননি। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্রও সেই সুরেই বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট কী করতে চলেছেন, তা আমরা আগে থেকে কিছুতেই জানাব না।’
স্বাভাবিকভাবেই জোর জল্পনা চলছে উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সুরও বরাবরই চড়া। কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে আগেও একাধিক বার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের সেই সব হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের প্ররোচনা রয়েছে বলে পিয়ংইয়ং অভিযোগ করেছে। উত্তর কোরিয়ার আকাশ সীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান দেখা গেলেই তা গুলি করে নামানো হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও মন্তব্য যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাসস।
ইত্তেফাক/রেজা