স্পোর্টস রিপোর্টার
২০১৪ সালে সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর তার ক্যারিয়ারে অনেক নাটকীয় সব ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বোলারে পরিণত হয়েছেন, নানারকম পুরস্কার পেয়েছেন, আইপিএল থেকে শুরু করে ইংলিশ কাউন্টি খেলে এসেছেন। কিন্তু এই লম্বা সময়ে আর ঢাকা লিগে খেলা হয়নি। ইনজুরি বা বিদেশি লিগে খেলার কারণে খেলতে পারেননি চারটি বছর।
অবশেষে মুস্তাফিজ গতকাল নেমেছিলেন ঢাকা লিগে। কিন্তু শাইনপুকুরের হয়ে এই ফেরাটা সুখকর হলো না বাংলাদেশি এই পেস তারকার। নিজে অবশ্য ভালো বোলিং করেছেন। প্রথম ওভারেই দুটিসহ ৩ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত দলে ছিলেন মুস্তাফিজ। শাইনপুকুরকে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ২১ রানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগের লড়াইয়ে নিজেদের রাখতে পেরেছে গাজী গ্রুপ।
সকাল থেকেই বৃষ্টির হুমকি ও মাঝে মাঝে বৃষ্টি ছিল। এর মধ্যে আগে ব্যাট করা শাইনপুকুর ৪৮ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭৭ রান তুলতে পারে। শুরুর দিকে তাদের কিছুটা রান এনে দিয়েছিলেন ৪০ রান করা সাদমান। এরপর মিডল অর্ডার একেবারেই ধসে পড়েছে সঞ্জিত সাহার বোলিংয়ের সামনে। শেষ বেলায় দলের মান রক্ষা করেছেন অধিনায়ক সোহরাওয়ার্দী শুভ ও দেলোয়ার হোসেন। শুভ ৩০ রান করেন। আর দেলোয়ার ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
শাইনপুকুরের ইনিংসের মধ্যেও দু বার বৃষ্টি এসে আঘাত হানায় ম্যাচ ৪৮ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। সে হিসেবে গাজী গ্রুপের সামনে ৪৮ ওভারে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৭৯ রান। কিন্তু তারা ২১.৫ ওভার ব্যাটিং করার পর নামে তুমুল বৃষ্টি। মিরপুরে আর খেলাই সম্ভব হয়নি।
প্রাইম ব্যাংককে শুরুতেই কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় ও শেষ বলে তুলে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। ওয়ালিউল শূন্য রানে ও ইমরুল কায়েস ৫ রানে ফিরে আসেন। এরপর ষষ্ঠ ওভারে আবার এসে মুস্তাফিজ তুলে নেন মেহেদী হাসানের উইকেট। তারপরও গাজী গ্রুপকে খেলায় রেখেছিলেন সামসুর রহমান শুভ।
শেষ পর্যন্ত শুভ ৬৫ বলে ৯টি চারে সাজানো ৫৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। বৃষ্টিতে খেলা থেমে যাওয়ার সময় গাজী গ্রুপের রান ছিল ৪ উইকেটে ১০৬। যা তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ছিল।
গাজী গ্রুপের জয়
শাইনপুকুর-গাজী গ্রুপ
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ৪৮ ওভারে ১৭৭/৯ (সাদমান ৪০, দেলোয়ার ৪০*, সোহরাওয়ার্দী ৩০, সাব্বির হোসেন ২৪; সঞ্জিত ৪/২৫, নাসুম ২/৩৩)।
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স (২১.৫ ওভারে লক্ষ্য ৮৬) : ২১.৫ ওভারে ১০৬/৪ (সামসুর ৫৩*; মুস্তাফিজ ৩/২৩)।
ফল: গাজী গ্রুপ ২১ রানে জয়ী (ডিএল পদ্ধতি)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সঞ্জিত সাহা