রেলিগেশনের দুয়ারে ব্রাদার্স ইউনিয়ন

রাব্বি ও রকিবুলের সেঞ্চুরি

স্পোর্টস রিপোর্টার

এক সময়ের ডাকসাইটে ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবার ঢাকা লিগে রেলিগেশনের একেবারে দুয়ারে চলে গেছে। আগের ম্যাচে তারা মোহামেডানের বিপক্ষে ব্যাটিং না করে ম্যাচ পয়েন্ট খুইয়েছে। আর গতকাল বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে হেরে গেছে তারা খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির কাছে।

১০ ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও উত্তরা স্পোর্টিংয়ের পয়েন্ট ৪ করে। শেষ ম্যাচে জিতলেও শুধু রক্ষা হবে না। সেই সাথে বিকেএসপি বা খেলাঘরের পরাজয় কামনা করতে হবে দল দুটিকে। তা না হলে প্রথম বিভাগে নেমে যেতে হবে ব্রাদার্স ও উত্তরা স্পোর্টিংকে।

গতকাল ব্রাদার্সকে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১২ রানে হারিয়েছে খেলাঘর। যদিও ব্রাদার্সের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। দিনের অন্য ম্যাচে সেঞ্চুরি করে মোহামেডানের জয়ের নায়ক হয়েছেন রকিবুল হাসান। মোহামেডান ১৩৩ রানে ডিএল পদ্ধতিতে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংককে।

ফতুল্লায় আগে ব্যাট করা ব্রাদার্স শূন্য রানেই ওপেনার জুনায়েদের উইকেট হারিয়েছিল। তারপরও তারা বড় স্কোর করতে পারে রাব্বির ব্যাটে ভর করে। রাব্বি ১১৬ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজিয়ে ১০৩ রান করেন। সাথে মিজানুর ৪৯, ইয়াসির আলী অপরাজিত ৪৭ ও দেবব্রত দাস ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন।

পূর্ণ ম্যাচের লক্ষ্য নিয়েই ব্যাট করতে নামে খেলাঘর। তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে বৃষ্টি। ২০ ওভারে তারা ১ উইকেটে ৮৪ রান করতে পারে; যা ডিএল পদ্ধতির হিসেবে প্রয়োজনীয় ৭৩ রানের চেয়ে বেশি। দিনের অন্য ম্যাচে টানা পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জয় পেয়েছে মোহামেডান। এই জয়ের ফলে তাদের সুপার সিক্সের স্বপ্ন শেষ রাউন্ড পর্যন্ত টিকে রইলো। আগে ব্যাট করা মোহামেডান ৫০ ওভারে ২৯৬ রানের বিশাল স্কোর করে রকিবুলের সেঞ্চুরি ও রজত ভাটিয়ার ৬৬ রানে ভর করে। রকিবুল ১০৪ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ১০২ রান করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নামা প্রাইম ব্যাংক কখনোই এতো বড় লক্ষ্যে ছোটার মতো করে জুটি করতে পারেনি। তাদের ব্যাটসম্যানরা অনেকে শুরু পেলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ। ফলে ৩৯.১ ওভারে বৃষ্টিতে যখন খেলা থেমে যায়, তখন তাদের স্কোর ৯ উইকেটে ১৫০। অনুমিতভাবেই হেরেছে তারা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ব্রাদার্স ইউনিয়ন—খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি

ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৫০ ওভারে ২৬৭/৬ (ফজলে রাব্বি ১০৩, মিজানুর ৪৯, ইয়াসির ৪৭*, দেবব্রত ৪৫)।

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি: ২০ ওভারে ৮৪/১ (রবি ৩৯*, অংকন ২১*, কমল ২১)।

ফল: খেলাঘর ১২ রানে জয়ী (ডিএল পদ্ধতি)

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফজলে মাহমুদ রাব্বি

মোহামেডান—প্রাইম ব্যাংক

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৯৬/৯ (রকিবুল ১০২, রজত ৬৬, লিটন ৩৬, সোহাগ ৩৩; মনির ২/৩৭, নাঈম হাসান ২/৫৩, আল আমিন ২/৫৪, রাজ্জাক ২/৬৫)।

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৩৯.১ ওভারে ১৫০/৯ (নাহিদুল ২৮, এনামুল বিজয় ২৬, ঈশ্বরন ২২; সোহাগ গাজী ৪/২১, আশরাফুল ৩/৩৭)।

ফল: মোহামেডান ১৩৩ রানে জয়ী (ডিএল পদ্ধতি)

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রকিবুল হাসান