আবাহনী ঝড়ের কবলে চট্টগ্রাম আবাহনী

আবাহনী ২ চট্টগ্রাম আবাহনী ০

 স্পোর্টস রিপোর্টার

যখন তখন বৈরী আবহাওয়া। সকালে একরকম তো বিকালে আরেক রকম। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগও বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছে। প্রাকৃতিক ঝড়ের সঙ্গে আবাহনীর ফুটবল ঝড়ও দেখা গেল। আবাহনীর ঝড়ের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম আবাহনী বিধ্বস্ত। আবাহনী ২-০ গোলে জিতলেও চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে সেটি ঝড়ের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মাঠে নামতে না নামতেই চট্টগ্রাম আবাহনীর জালে দুই গোল। কিকঅফেই ঝড় তোলে নেপালে এএফসি কাপে  খেলে আসা আবাহনী। ৮ এবং ১৭ মিনিটে দুই গোল করে আবাহনী লিগ নেয় মাঠে। চট্টগ্রাম আবাহনী তখনো কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। এভাবে মাঠে নেমে দুই গোলে পিছিয়ে যাবে, চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর ভাবনায়ও ছিল না। জীবন এবং সানডের গোলে আবাহনীর জয়টা নিশ্চিত থাকলো, শেষ পর্যন্ত।

এমনিতেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠ আগে থেকে বৃষ্টিতে ভেজা ছিল। খেলাটা যখন শুরু হয় তখনও ভারী আকাশ। মাঠে নেমেই চট্টগ্রাম আবাহনীর উপর ঝড় তুললো ঢাকার দল আবাহনী। আক্রমণভাগে বাম পাশে হাইতিয়ান বেলফোর্ট, মাঝে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে। পেছনে জীবন। বামপাশে রুবেল মিয়া। তারও পেছনে কোরিয়ান ফুটবলার মিনহিউক কো। এমন আক্রমণভাগ সামাল দিতে পারেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। নাজেহাল করে দিয়ে ঢাকার দল আবাহনী টপাটপ গোল তুলে নেয়। বেলফোট বল নিয়ে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কাটব্যাক করেন। কোরিয়ান চতুর ফুটবলার পজিশনে থাকায় বল পায়ে নিয়েই নিচু ক্রস করেন। নাবীব নেওয়াজ জীবন আলতো ছোঁয়ায় বলের গতি ঘুরিয়ে গোল করেন ১-০। ৮ মিনিটে প্রথম গোলের ধাক্কা সামাল দিয়ে না উঠতেই ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে চট্টগ্রাম আবাহনী। প্রথম গোলদাতা জীবন বামদিক থেকে নিখুঁত ক্রস ফেলেন। সানডে মাথা ছুঁয়ে গোলে পরিণত করেন ২-০।

প্রথমার্ধেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে চট্টগ্রাম আবাহনী গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ওয়ালী ফয়সাল, অধিনায়ক গোলকিপার সোহেল, রায়হান হাসান, টুটুল হোসেন বাদশা, আতিকুর রহমান ফাহাদ, আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানিরা চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে খুব বেশি ঘাম ঝরাতে হয়নি। লড়াই হয়েছিল। চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজেরিয়ান আওয়ালা মাগালানের কারণে গোলকিপার সোহেল আঘাতও পেয়েছিলেন। কিন্তু আবাহনীর জালে বল রাখার পথ ছিল বন্ধ। প্রায় ৭৩ মিনিট, সব চেষ্টা বিফলে গেছে চট্টগ্রাম আবাহনীর। ১ ম্যাচ বেশি খেলে ১১ খেলায় আবাহনীর ২৭ পয়েন্ট। ১ ম্যাচ কম খেলে বসুন্ধরার ২৮।

জীবন গোল করেছেন এবং গোল করিয়েছেন। আত্মবিশ্বাস বাড়ছে বলে জানালেন। নিয়মিত একাদশে নামানো হলে গোল করে দেখাতে পারবেন। তার মুখে আনন্দের তৃপ্তি। কালকের ম্যাচে জীবনের ৭ গোল এবং সানডে করলেন অষ্টম গোল। 

আগামী শনিবার আবাহনী ও শেখ জামাল ম্যাচ ঢাকায়। আজ ও কাল খেলা নেই।