পিএসজি জুভেন্তাসের অপেক্ষা বাড়লো

স্পোর্টস ডেস্ক

শিরোপাধারী পিএসজি ফরাসি লিগ ওয়ানে স্ত্রাসবুর্গের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করায় আরো এক ম্যাচের জন্য তাদের শিরোপা ধরে রাখার প্রতীক্ষা বাড়লো। ইতালিতেও একই চিত্র জুভেন্তাসের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাপোলি হারের মুখ থেকে বেরিয়ে জেনোয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে অপেক্ষার যন্ত্রণায় রাখলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের।

পিএসজি আট ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল নেইমার-কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়াই। এরিক চুপো-মোটিংয়ের গোলে ১৩ মিনিটে পিএসজি এগিয়ে গেলেও দুই গোল করে ম্যাচে ফেরে সফরকারী স্ত্রাসবুর্গ। ৮২ মিনিটে থিলো কাহরারের শিরোপাধারী দলটির হয়ে সমতা ফেরালে এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় তাদের।

পিএসজির ড্র ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড চুপো-মোটিংয়ের গোলের সুযোগ নষ্ট করা। তরুণ এই ফরোয়ার্ড যা করেছেন তাকে শতাব্দীর সেরা সুযোগ নষ্টের খেতাব দিয়ে দেওয়া যায়। ২৭ মিনিটে খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার সময় সতীর্থ ক্রিস্টোফার এনকুকুর উঁচু করে পাঠানো বল বিপক্ষ গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে গিয়ে পড়ে আগুয়ান ও প্রায় গোললাইনের উপরে থাকা এরিকের পায়ে। কিন্তু এ রকম অবস্থানে থেকেও তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি।

সেন্টিমিটার দূরত্বে থেকে এই সুযোগ নষ্টের ব্যাখ্যায় সাবেক স্টোকসিটি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এনকুকু আমাকে বলটা দিতে যাচ্ছে। পরে মনে হলো ডিফেন্ডার বলটা পেয়ে যাবে। শেষমেশ যখন বলটা আমার পায়েই এলো তখন মনে করেছিলাম আমি অফসাইডে। সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি হচ্ছিলো। আমি বলটা স্পর্শ করলাম, এটা গোলপোস্টে আঘাত করলো। যাই হোক এটা লজ্জার কেননা বলটা ভেতরেই যাচ্ছিলো। এর জন্যে দুঃখিত আমি।’

কোচ থমাস টুখেল অবশ্য ড্রয়ের সব দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের রক্ষা করার প্রয়োজন ছিলো। নিজেদের খেলা ধরে রেখে ছন্দ ফিরিয়ে আনতে হতো। কিন্তু আমি সেটা করতে পারিনি। এটা আমার ভুল এবং এজন্যে আমি বিব্রত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ম্যাচের আগে অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক খেলার কাঠামো নিয়ে নেমে একটা বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এজন্যে কিছুটা মর্মাহত। সিদ্ধান্তটির ফলে খেলায় কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না আমাদের। দ্বিতীয়ার্ধ্বে আমাদের খেলায় পরিবর্তন এসেছিল। তখন আমরা খেলা নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। এবং প্রতিপক্ষ অর্ধে খেলছিলাম।’

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোহীন জুভেন্তাসেরও সিরিআতে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ এসেছিল এদিন।  জেনোয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ন্যাপোলি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা জুভেন্তাস থেকে ২১ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিল। ঘরের মাঠে একটি হারই জুভেন্তাসের হাতে শিরোপা তুলে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল। প্রথমার্ধ্বেই অবশ্য ড্রাইস মার্টেন্সের গোলে সে সম্ভাবনায় পানি ঢালে কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধ্বে সফরকারী জেনোয়া সমতা ফেরালে অপেক্ষা বাড়ে কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দলের।